খামারি অ্যাপ দিয়ে প্রশিক্ষণ

পার্বতীপুরে ৩০০ উঠান বৈঠকে উপকৃত কৃষকরা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

আমন ধানের পোকা নিধন, অতিরিক্ত সার, কীটনাশকের ব্যবহার রোধ, ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ব্যবহার ও মাটির ১৭টি উপাদান সম্পর্কে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ৩০০ উঠান বৈঠক করছে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিস বিভাগ। এসব উঠান বৈঠকে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের আক্রমণ থেকে আমন ধানের ক্ষেত রক্ষার কৌশল হাতে কলমে শেখাচ্ছে, ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছে। আর উঠান বৈঠকগুলোতে ৬০০ থেকে ৭০০ কৃষক- কিষানি অংশগ্রহণ করছেন। উপজেলার ১০ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা মিলে ৩১ ব্লকে ৫০০ উঠান বৈঠকের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপজেলায় ৮৬ হাজার ৬০১ কৃষক রয়েছে। গত দেড় মাসে ৩০০টি উঠান বৈঠক করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই কৃষক- কিষানির অংশগ্রহণে কৃষি বিষয়ে ক্রপস জয়েনিং প্রজেক্টের আওতায় ‘খামারি অ্যাপ’ যাত্রা শুরু করে।

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাজিব হুসাইন বলেন, চলতি আমন ফসলের রোগ ও পোকা আক্রমণের লক্ষণ কৃষকদের জানানোসহ মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা, সরকারি সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি এসব উঠান বৈঠকের উদ্দেশ্য। উদ্ভাবিত আধুনিক প্রযুক্তিগুলোতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষিত করতে উপজেলায় ৫০০ উঠান বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় হচ্ছে এই প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠক। এবার উপজেলায় ২৮ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলার সিনিয়র উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. আবু সুফিয়ান বলেন, কৃষকরা এই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিগুলো প্রয়োগ ও ব্যবহার করে অল্প পরিশ্রমে, কম খরচে ও বিষমুক্ত দ্বিগুণ পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের জন্য পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তিগুলো উদ্ভাবন ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ব্যবহার ও মাটির ১৭টি উপাদানের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০০ উঠান বৈঠক সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। 

বৈঠকে আমন ফসলের রোগ ও পোকা আক্রমণের লক্ষণ, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক সার ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে কৃষকদের সচেতন করা হয়। বৈঠকে উৎপাদিত আমন ধান থেকে বীজ উৎপাদন, কীভাবে বীজগুলো সংরক্ষণ করে রাখলে গুণগতমান ভালো থাকবে, কোন ধরনের ধানগুলোকে বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে, কখন বীজগুলো বিতরণ ও জমিতে রোপণ করা যাবে সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজিত এই উঠান বৈঠক ও কৃষি প্রশিক্ষণে আলোচনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। এ সময় কৃষক ও কৃষানি ছাড়াও উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত