শখের খেজুর গাছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন সাইফুদ্দিন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

দেশের আর্দ্র আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির ফসল ফলানো সম্ভব কি না চার বছর আগে এই প্রশ্নের মুখেই পড়েছিলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের সাইফুদ্দিন হিরু। তবে সব সংশয় ও প্রতিকূলতা দূর করে ৩৩ শতাংশ জমিতে আজওয়া, মরিয়মসহ বিভিন্ন জাতের বিদেশি খেজুর ফলিয়ে সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। ২০২২ সালে শখের বশে গয়েশপুরের রাজিব নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাত্র ৪টি চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন হিরু। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও ইন্টারনেট ও ইউটিউব দেখে তথ্য সংগ্রহ করে কৌশলগতভাবে এগোতে থাকেন। বর্তমানে তার ৩৩ শতাংশ জমির বাগানে আজওয়া, মরিয়ম, মেজজুল, ছুক্কারি, বারহি ও বড়ইসহ প্রায় ১০-১২টি উন্নত জাতের ৬০টি গাছ রয়েছে। গাছগুলোতে ঝুলছে থোকা থোকা খেজুর। হিরুর এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয় কৃষকরা। বাগানের গাছ থেকে উৎপাদিত চারা (সাকার) দিয়ে চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন হিরু। তবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক দর্শনার্থীর মনেই এখন প্রশ্ন মরুভূমির খেজুরের মতো এ দেশের খেজুরও ততটা সুস্বাদু হবে কি না।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সাইফুদ্দিন হিরু বলেন, শুরুতে অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও আজ গাছে গাছে ফল দেখে সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এখন সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। আটঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা সুজন জানান, লোক মুখে শুনেছি একদন্ত এলাকায় মরুভূমির খেজুরগাছে খেজুর ধরেছে। তাই নিজ চোখে খেজুরগাছ ও ফল দেখতে এসেছি। মানসম্মত চারা ও গাছ পেলে নিজেও বাগান করতে চান বলে জানান তিনি। একদন্ত এলাকার বাসিন্দা আনার জানান, নিজ চোখে কখনো বিদেশি খেজুরগাছে খেজুর ধরতে দেখেননি, জীবনের এই প্রথম বাগানে এসে সৌদি খেজুর ও গাছ দেখলাম। একই এলাকার সজীব জানান, শুরুতে খেজুর বাগান দেখে ভেবেছিলাম এই মাটিতে কখনো খেজুরগাছ হবে না। কিন্তু চেষ্টা আর পরিশ্রম দ্বারা তা সম্ভব হয়েছে। গুণগত মান ভালো থাকলে পাবনায় মরুভূমির খেজুরের এক নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, উদ্যোগটি প্রশংসনীয় এবং কৃষি বিভাগ বাগানটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মরুভূমির তুলনায় এখানকার মাটিতে গাছের বৃদ্ধি কিছুটা কম হওয়ায় প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উপায় নিয়ে কাজ চলছে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা শেষে খেজুরের স্বাদ ও বাজারদর সন্তোষজনক প্রমাণিত হলে জেলাজুড়ে এ চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত