পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি সামুদ্রিক মাছ। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘কিং চান্দা’ নামে পরিচিত। ব্যতিক্রমী আকৃতির মাছটি গতকাল সোমবার মহিপুর মৎস্য মার্কেটে বিক্রির জন্য আনা হলে তা দেখতে স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। মাছটির ওজন ৩ কেজি, পরে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে মোট ২ হাজার ২৫০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয়। মাছটি ‘রিপন ফিশে’ বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে কুয়াকাটার ‘আল-আমিন ফিশ বারবিকিউ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের ফ্রাই দোকানের জন্য মাছটি কিনে নেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও প্রায় গোলাকার। পিঠ ও পেটের পাখনা তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় দেখতে অনেকটা বাদুড়ের মতো। আকৃতির ভিন্নতার কারণে বাজারে আনার পরপরই মাছটি নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। স্থানীয় জেলে জামাল বলেন, ‘সাগরে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। তবে এ ধরনের চ্যাপ্টা ও বাদুড়ের মতো দেখতে মাছ সচরাচর দেখা যায় না। বাজারে মাছটি আনার পর অনেক মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেন।’
আরেক জেলে রহিম বলেন, ‘গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ জালে ওঠে। তবে এই মাছটির আকৃতি অন্য মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। এর আগে এমন মাছ খুব কমই দেখেছি। মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারী জানান, মাছটির অস্বাভাবিক আকৃতি ও ব্যতিক্রমী গড়নের কারণে বাজারে আসার পর ক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। পরে মাছটি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ((WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Platax teira। এটি সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাসকারী ব্যাটফিশ বা বাদুড় মাছের একটি প্রজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে এটি লংফিন ব্যাটফিশ (Longfin batfish) বা টেইরা ব্যাটফিশ (Teira batfish) নামে পরিচিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মেরিন বায়োডাইভার্সিটি পোর্টালে এ প্রজাতির উপস্থিতি সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবালপ্রাচীর-সম্পর্কিত সামুদ্রিক পরিবেশে নথিভুক্ত রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন,Platax-গণের মাছ সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে এ ধরনের মাছের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তবে কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়া মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা নিশ্চিত করতে ছবি ও নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একই ধরনের মাছ ধরা পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।