ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: বন্ধ সিঁড়িতে আটকে বাড়ে ভয়াবহতা

ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ থাকায় চরম আতঙ্ক ও ভোগান্তির মুখে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিতেই ছিল তালা মারা। ফলে আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা মাত্র একটি সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামার চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হন এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সরাসরি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নতুন ভবনটিতে মোট সাতটি লিফট ও পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত মাত্র একটি সিঁড়ি ব্যবহারের অনুমতি ছিল। বাকি চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলার প্রবেশপথে ছিল মরিচা ধরা গ্রিল ও তালা ঝুলানো। আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে মানুষ প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করেন। বাধ্য হয়ে রোগী ও স্বজনেরা ভবনের বিভিন্ন তলার তালা ও লোহার গেট ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে ছড়িয়ে থাকা ভাঙা বেড ও অন্যান্য সামগ্রীর কারণে অনেকেই হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী রোগী ও তাদের স্বজনেরা সোমবার রাতেই (১৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে চরম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। এক স্বজন জানান, আগুনের প্রচণ্ড ধোঁয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় তারা নিচে নামতেই পারেননি। ভবনের এক কোণে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু ও তাদের স্বজনেরা আটকা পড়ে চরম শ্বাসকষ্ট ও বমিতে ভোগেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর জরুরি বিভাগে ভিড় করেন উদ্বিগ্ন স্বজনরা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সেখানে কর্তব্যরত নার্স ও স্বজনদের ক্ষোভ—জরুরি মুহূর্তে সিঁড়িগুলো উন্মুক্ত থাকলে এত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

জরুরি সিঁড়ি বন্ধ রাখার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ফায়ার সার্ভিস—উভয় পক্ষই প্রশাসনিক ঘাটতি স্বীকার করেছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, নিরাপত্তার সুবিধার্থে চারটির মতো সিঁড়ি বন্ধ রাখা হতো। তবে এই দুর্ঘটনার পর সব কয়টি সিঁড়ি সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নিরাপত্তার অজুহাতে সিঁড়ি বন্ধ রাখায় উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। সিঁড়ি খোলা থাকলে মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে পারতেন।

অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন ১১ নম্বর লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। লিফটটি বিগত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকলেও সেটির বৈদ্যুতিক কন্ট্রোল বোর্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল ছিল। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত তাপ থেকে সৃষ্ট শর্টসার্কিটের ফলেই বৈদ্যুতিক তারে আগুন লেগে পুরো ভবনের হলের মাধ্যমে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত