ফিলিপের জীবনযুদ্ধ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ এএম

ফিলিপ পেশায় ছিলেন একজন জেলে। ১৭২২ সালের জুনে তিনি নোভা স্কটিয়া, শেলবার্নের উপকূলে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে। দুর্ভাগ্যবশত তিনি জলদস্যুদের হাতে ধরা পড়েন। কিন্তু ফিলিপ মোটেই ভীতু বা দমে যাওয়ার মতো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি ছিলেন কিছুটা বদমেজাজি এবং একগুঁয়ে। তাই জলদস্যুদের হাতে ধরা পড়ার পর তিনি বিচলিত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো বিদ্রোহ করে বসেন। তিনি মোটেই দস্যুদের কথামতো চলতেন না, তাদের কথায় কানই দিতেন না! কোনো কাজে হাতও দিতেন না, যার ফলে তারা তাকে প্রায়ই হুমকি-ধমকি দিত। কিন্তু ফিলিপ থোড়াই কেয়ার করতেন!

জলদস্যুরা একবার রোয়াটান দ্বীপে নোঙর ফেলে। সুযোগ বুঝে ফিলিপ সবার অলক্ষ্যে পালিয়ে যান। জঙ্গলের ভেতর গিয়ে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেন। জঙ্গলটি ছিল সব রকমের পোকামাকড় এবং কুমিরে ভর্তি। আবহাওয়া ছিল প্রচণ্ড গরম। প্রথম দিকে তাকে শুধু জঙ্গলের ফলমূল খেয়েই চলতে হয়েছে, কারণ প্রাণী হত্যা করার মতো কোনো অস্ত্র তার কাছে ছিল না। তবে অবাক করা বিষয় হলো, ফিলিপ সেই দ্বীপে আরেকজন ইংরেজ ব্যক্তির দেখা পান, যিনি নিজেও হারিয়ে গিয়েছিলেন। ফিলিপকে আরও বেশি অবাক করে এবং রহস্যে ফেলে দিয়ে সেই ইংরেজ ব্যক্তি কয়েক দিন পরেই আবার উধাও হয়ে যায়। তাকে আর ফিলিপ খুঁজে পাননি। তবে চলে গেলেও ইংরেজ ব্যক্তিটি একটি ছুরি, গানপাউডার, তামাক এবং আরও কিছু জিনিসপাতি রেখে গিয়েছিল, যেগুলো ব্যবহার করে ফিলিপ কচ্ছপ এবং চিংড়ি শিকার করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যান। এর প্রায় ১৬ মাস পর ম্যাসাচুসেটসের একটি জাহাজ ফিলিপকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত