দেশে নগদ টাকার পাশাপাশি কার্ডভিত্তিক লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯টি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৭টিতে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৭ শতাংশ।
একই সময়ে কার্ডের মাধ্যমে মোট লেনদেন ২২ হাজার ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৪৭ হাজার ৪৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে পাঁচ বছরে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৮ শতাংশ।
কার্ডের ধরনভেদে প্রবৃদ্ধিতেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৩৬ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ড ২৮ শতাংশ। বিপরীতে প্রিপেইড কার্ড বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর ৫০ শতাংশের বেশি হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। ইউটিলিটি বিল, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র, নগদ উত্তোলন, ওষুধ ও ফার্মেসি এবং পোশাকের দোকানেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।
কার্ডের আন্তর্জাতিক ব্যবহারও বাড়ছে। জুলাইয়ে বাংলাদেশি কার্ডধারীরা দেশের বাইরে ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩০টি লেনদেন করেছেন, যার আর্থিক পরিমাণ ৯৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকেরা ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৪টি লেনদেন করেছেন, যার পরিমাণ ২৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্ডের বিস্তার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, পরিবহন, সরকারি সেবা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের বিস্তারে সাইবার নিরাপত্তা, প্রতারণা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক জ্ঞানের ঘাটতি এবং নগদনির্ভরতার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গ্রাহক সচেতনতা বাড়ানো গেলে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।