আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ফরজ রোজার পাশাপাশি অনেকে নফল রোজা আদায় করেন। নফল রোজা হলো এমন ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছায় পালনীয় রোজা, যা ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অতিরিক্ত সওয়াবের আশা। কিন্তু নফল রোজা শুরু করার পর কোনো কারণে তা ভেঙে ফেললে কী করতে হবে; কাজা করতে হবে, নাকি কাফফারা দিতে হবে।
এবিষয়ে মাজহাবভেদে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফি ফিকহে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
নফল রোজা শুরু করলে করণীয়
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, নফল রোজা শুরু করার পর বিনা ওজরে তা ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। কোনো সঙ্গত ওজরের কারণে রোজা ভেঙে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা করতে হবে। অর্থাৎ শুরু করা নফল রোজা পূর্ণ না হলে পরবর্তীতে একটি রোজা রেখে তার কাজা আদায় করতে হবে।
নফল রোজা ভাঙার বিষয়ে হাদিস
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি ও হজরত হাফসা (রা.) নফল রোজা রেখেছিলেন। পরে তাদের সামনে পছন্দের খাবার এলে তারা তা খেয়ে নেন। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জানানো হলে তিনি তাদের অন্য একদিন রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (তিরমিজি: ৭৩৫; মেশকাতুল মাসাবিহ: ২০৮০)
তবে নফল রোজা ভেঙে ফেলার বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহদের মধ্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে মাজহাবভিত্তিক বিধান উল্লেখ করে বিষয়টি বোঝা প্রয়োজন।
রোজা ভাঙলে কাজা, নাকি কাফফারা
নফল রোজা শুরু করার পর তা ভেঙে ফেললে একটি রোজা কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। অর্থাৎ রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলার সঙ্গে নফল রোজার বিধান এক নয়। নফল রোজা ভেঙে গেলে হানাফি মাজহাবে কাজা ওয়াজিব হয়, তবে কাফফারার বিধান নেই।