মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জামায়াত আমির

‘২৫ এজেন্সি কোন যোগ্যতায় নির্বাচিত, সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে’

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২৫টি এজেন্সি নির্বাচন করে তাদের অধীনে অন্য এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা না থাকা এজেন্সিকেও নির্বাচন করা হয়েছে। কোন যোগ্যতায় এসব এজেন্সিকে নির্বাচিত করা হয়েছে, তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো সিন্ডিকেট চাই না, সুষ্ঠু শ্রমবাজারের পরিবেশ চাই। সমস্যা শুধু মালয়েশিয়ায় নয়, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বেশি হচ্ছে।’

২৫টি এজেন্সি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের অধীনে অন্য এজেন্সিকে কাজ করার ব্যবস্থা এবং পূর্বের অভিজ্ঞতা না থাকা এজেন্সিকে সিলেক্ট করার’ বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘কোন যোগ্যতায় তাদের সিলেক্ট করা হয়েছে?’

জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে তারা। না হলে এটি করে কীভাবে? সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে যে, তারা জড়িত নয়। পরিষ্কার করতে হবে কোন যোগ্যতায় তাদের সিলেক্ট করা হয়েছে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তিনবার বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্মুক্ত হওয়ার পর চতুর্থবার বন্ধ হোক, তা তিনি চান না। এটি দেশের জন্য অপমানজনক।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার ফ্যাসিস্ট আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো সচল আছে। ভেতরের রূহ ঠিক আছে, শুধু বাইরের চাদর বদলানো হয়েছে। একদল গেছে, আরেক দল দায়িত্ব নিয়েছে—তাদের বোঝাপড়া আছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটে আমার ভাই থাকলেও তাকেও বের করে দেন। আমরা কোনো সিন্ডিকেট চাই না।’

সরকারকে এসব বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেটের জুলুম আর চাই না। সরকারকে বলব, এসব বন্ধ করুন। পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশকেও পারতে হবে।’

শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো কোনো নেতার বৈঠকের খবর পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশের পরে মানুষের ওপর জুলুম বহাল থাকবে, তা কল্পনাও করি নাই। যারা বড় বড় কথা বলেন, তারাই এখন এসবের সঙ্গে যুক্ত।’

বিদেশগামী কর্মীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের দাবি, কাজের প্রয়োজনে মানুষ বিদেশে যাবে, সরকার যেন শোষণের হাতিয়ার না চালায়। আমরা এটি আর দেখতে চাই না। সব স্পষ্ট থাকতে হবে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে অসৎ কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান যেন সুবিধা না পায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের প্রতি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘সরকারের প্রতি যত সহযোগিতা লাগে, তা বিরোধীদল করবে। কিন্তু বর্তমানটি ধরে রেখে জনগণকে শোষণের চেষ্টা করা হলে এটি দুঃসংবাদ হয়ে তাদের দিকে ফিরে যাবে।’

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের জন্য দুর্বার আন্দোলন করে এ সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করব।’

শুধু শ্রমবাজার নয়, দেশের বাজারেও সিন্ডিকেট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে বাধ্য করব এসব ভাঙতে। সরকার না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এসব সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব আমরা কোথাও রাখব না।’

প্রবাসীদের অধিকার নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার না দিয়ে শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলা উপহাসের শামিল। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা লড়াই করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া বৈধ ভিসা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো কারণ না জানিয়ে তাঁদের ফেরত পাঠানো শুধু চাকরির অধিকার হরণ নয়, দেশকে অপমানের শামিল। এর পেছনে যে কারণ রয়েছে, তা সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

সেমিনারে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তক ও সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতাহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এবি পার্টির শ্যাডো অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নেয়ামুল বশির, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত