আইনমন্ত্রী বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বিশ্বের সাংবিধানিক কাঠামো প্রভাবিত

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও আইনি ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকাস্থ আমেরিকা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইউএস কনস্টিটিউশন ডে’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিচারিক পর্যালোচনা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো সাংবিধানিক অধ্যয়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থী, আইনজীবী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সাংবিধানিক ধারণা আরও গভীরভাবে অনুধাবনে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, সংবিধান ও সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আইন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক চর্চা নিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সূচনা হয়েছে ‘ডব ঃযব চবড়ঢ়ষব’ বাক্য দিয়ে। ১৭৮৭ সালের গ্রীষ্মে ফিলাডেলফিয়ায় সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকলেও প্রতিনিধিরা এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে সম্পূর্ণ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কনস্টিটিউশন ডে পালিত হয়। দিনটি দেশটির সাংবিধানিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ কোনো একটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট নয়; নিজস্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনায় আগ্রহী সব সমাজের জন্যই এসব গুরুত্বপূর্ণ।

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্ব শেষে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং দুই দেশের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতার তুলনামূলক দিক নিয়ে আলোচনা করেন শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আইন ও বিচার অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত