আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজাউল্লাহর ৯ ছক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখা মিলল এক অবিশ্বাস্য পাওয়ার-হিটিংয়ের। আন্তর্জাতিক মঞ্চে না হলেও পাকিস্তানের ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে ছক্কার নতুন ইতিহাস গড়েছেন ২৩ বছর বয়সী ওপেনার মোহাম্মদ ফারুক।
রাওয়ালপিন্ডির শোয়েব আখতার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে 'প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড ওয়ান' টুর্নামেন্টে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের (কেআরএল) বিপক্ষে 'মার্কর আইটি সলিউশনস'-এর হয়ে এই বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ফারুক। দলের হয়ে ওপেন করতে নেমে মাত্র ৯৯ বলেই ১৬৩ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস উপহার দেন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল ১১টি চারের মার এবং চোখ জুড়ানো ১৪টি ছক্কা। মাত্র ৬৭ বলেই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেন এই ব্যাটার। তবে তার এই ইনিংসটিকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে ১৪টি ছক্কা।
ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে তিনি পেছনে ফেলেছেন দেশটির সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক মজিদ খানকে। দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে অটুট ছিল মজিদের সেই রেকর্ডটি। ১৯৬৭ সালে সোয়ানসিতে গ্ল্যামারগনের হয়ে অপরাজিত ১৪৭ রানের ইনিংসে ১৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন মজিদ খান।
পাশাপাশি পাকিস্তানের মাটিতে হওয়া যেকোনো ফার্স্ট-ক্লাস ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার আগের রেকর্ডটিও ভেঙে দিয়েছেন ফারুক। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে লাহোরে পাকিস্তান ইউনিভার্সিটির বিপক্ষে রেলওয়েজের হয়ে ২০৭ রান করার পথে গুলফরাজ খান ১২টি ছক্কা মেরেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে শেখুপুরায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ২৫৭ রানের অনবদ্য ইনিংসে সমান ১২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামও। সবাইকে ছাড়িয়ে নতুন চূড়ায় বসলেন ফারুক।ফারুকের এই টর্নেডো গতির ইনিংসের সুবাদে প্রথম দিনশেষে ৪ উইকেটে ৪৭৬ রানের পাহাড়ে দাঁড়িয়েছে ‘এমআইটি সলিউশনস’। তার সাথে দলের হয়ে আতিক-উর-রেহমান ১৪২ ও সালমান খান জুনিয়র অপরাজিত ১০৬ রানের বড় ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে খেলে পরিচিতি পাওয়া ফারুক এর আগেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডিজের বিপক্ষে তার ৫ ছক্কায় সাজানো ৪১ বলে ৬৩ রানের ইনিংসটি বেশ আলোচিত ছিল।
খালি গ্যালারি আর আবাসন সংকটের মাঝেই জাপানে শুরু এশিয়ান গেমস