খালি গ্যালারি আর আবাসন সংকটের মাঝেই জাপানে শুরু এশিয়ান গেমস

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
অলিম্পিকের চেয়েও বেশি ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে নানা প্রতিকূলতা আর বিতর্কের মধ্য দিয়ে শনিবার জাপানে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠল ২০তম এশিয়ান গেমসের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়ার ঐক্যের বার্তা দেওয়া হলেও ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার নাগোয়া স্টেডিয়ামে ছিল প্রচুর খালি আসন। বিশাল আকারের হৃদয় আকৃতির মূলমঞ্চে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গেমসের সূচনা হয়।

জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী সম্মানজনক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে তাদের আসনে যোগ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি ক্রিস্টি কভেন্টিরিও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা সব টিকিট বিক্রির দাবি করলেও গ্যালারির বড় একটা অংশ ফাঁকা দেখা যায়। এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া ৪৫টি দেশের মধ্যে জাপানি অ্যাথলেটদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উল্লাস দেখা গেছে চীনা দল মাঠে নামার সময়। 
 
শুটার আব্দুল্লাহ হিল বাকী লাল সবুজ পতাকা হাতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে মার্চ পাস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

নাগোয়া এবং আইচি প্রিফেকচারের এই আসরে সাতটি খেলার মাধ্যমে ২০২৮ অলিম্পিকের সরাসরি টিকিট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। যেখানে লড়বেন বিশ্বমানের তারকা ও উদীয়মান প্রতিভারা। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি ক্রীড়া ইভেন্টে মহাদেশের সেরা অ্যাথলেটরা প্রতিযোগিতা করবেন। এর মধ্যে রবিবার সকালেই মেনস ইন্ডিয়ান ট্রায়াথলনের মাধ্যমে গেমসের প্রথম স্বর্ণপদক নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে
 
তবে শুরুর আগেই নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল এই আসর। ১১ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট এবং ৬ হাজার অফিসিয়ালের থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে আয়োজকদের। খরচ কমাতে এ বছর কোনো প্রচলিত ‘অ্যাথলেট ভিলেজ’ বা খেলোয়াড় গ্রাম রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে প্রতিযোগীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে কনটেইনার ঘর, হোটেল এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ নামক একটি প্রমোদতরীতে।

গত সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে নাগোয়ার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছিল। এর রেশ কাটতে না কাটতেই জাপানের পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে নতুন এক টাইফুন, যা আগামী দিনগুলোতে খেলাধুলায় আরও বড় বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিবহন সংকটের কারণে বিমানবন্দর আটকা পড়েছেন বেশ কিছু অ্যাথলেট। এছাড়া ছোট বিছানাসহ কনটেইনার ঘরগুলোর নিম্নমানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অভিযোগ করেছে কয়েকটি দল। এমনকি গত শুক্রবারের উদ্বোধনী মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হয় দক্ষিণ কোরিয়া পুরুষ হকি দলের জন্য—যা জন্ম দিয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিব্রতকর পরিস্থিতির।

নজর কাড়বেন যারা

 
ইতিমধ্যেই ক্রিকেট, ফুটবল ও বাস্কেটবলের মতো খেলাগুলো শুরু হয়ে গেছে। ১৯৫১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই গেমসে অলিম্পিকের নিয়মিত ইভেন্ট যেমন সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্স রয়েছে, তেমনি কাবাডি এবং সেপাক তাকরার মতো আঞ্চলিক জনপ্রিয় খেলাগুলোও থাকছে। এছাড়া ই-স্পোর্টস, ব্রেকড্যান্সিং ও বিএমএক্স সাইক্লিংয়ের পাশাপাশি এবার প্যাডেল ও এমএমএ (মিক্সড মার্শাল আর্টস)-এর অভিষেক হচ্ছে।

এবারের গেমসে লড়বেন ফিলিপাইনের টেনিস সেনসেশন আলেকজান্দ্রা ইয়ালা। এছাড়া ভারতের ১৫ বছর বয়সি উদীয়মান ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী এবং ১৩ বছর বয়সি চীনের সাঁতারু ইউ জিদি সবার নজর কেড়েছেন। প্যারিস অলিম্পিকে সোনা জেতার পর জেন্ডার বিতর্ক এড়ানো তাইওয়ানের বক্সার লিন ইউ-টিংও অংশ নিচ্ছেন এই আসরে। উত্তর কোরিয়ার প্রায় ১০০ জনের বেশি অ্যাথলেট ১৪টি খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন “কিম জং উনকে আনন্দ দেওয়ার” লক্ষ্য নিয়ে।

অন্যদিকে, ১২৮ বছর পর অলিম্পিকে ক্রিকেট ফেরার আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় ভারতীয় ক্রিকেট দল। বৃষ্টির বাগড়া না বাধলে নাগোয়ার নবনির্মিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে পারে ভারত।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত