‘তুমি ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি’: চিরকুট রেখে নজরুলপত্নী মরিয়মের মৃত্যু

আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই দুজন এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিবরণসহ এসব চিরকুট পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
রাজধানীর ন্যাম ভবনে জামায়াতে ইসলামীর বহিস্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর তার লেখা হৃদয়বিদারক একাধিক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটগুলোতে সম্পর্কে অবহেলা, বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার করুণ আকুতি ফুটে উঠেছে।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম জানান, মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকেই তাঁর নিজের হাতে লেখা এসব চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

একটি চিরকুটে সাংসদের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম লেখেন, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!’
জামায়াতে ইসলামীর বহিস্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম (১৯)

ভালোবাসার অধিকার ও সম্পর্কের বিভাজন নিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়… ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

সম্পর্কের বিশ্বাসভঙ্গ ও নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অন্য একটি চিরকুটে তিনি লেখেন, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।’

সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ক্ষোভ ও আক্ষেপ ফুটে উঠেছে অপর একটি চিরকুটে। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
 
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর)  সন্ধ্যায় ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
 
পরে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই দুজন এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
 
মামলার এজাহারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিবরণসহ এসব চিরকুট পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং বিষয়টি স্পিকারকে জানানো হয়েছে।
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত