যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ, স্বামী আটক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ এএম

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে আখি আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী হাসনাইন আহমেদ মুসার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুসাকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গৃহবধূ আখি আক্তারকে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আটক মুসা দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চালতাতলী গ্রামের মিলন মাঝির ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামের আখি আক্তারের সঙ্গে মুসার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত শুক্রবার সকালে স্বামী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আখি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শনিবার দিনগত মধ্যরাতে মুসা বাজার থেকে এসিড কিনে এনে তার শরীরে নিক্ষেপ করেন। পরে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হলেও বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি তিনি। রবিবার সুযোগ পেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান আখি। পরে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে শরীরের পোড়া অংশের বিষয়টি জানান। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আখি আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তার অভিযোগ, স্বামী ব্যবসা করার কথা বলে অতিরিক্ত স্বর্ণালংকার ও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন। যৌতুক দিতে না পারায় তাকে মারধরসহ নানা ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে।

আখির মা রেহানা বেগম বলেন, বিয়ের সময়ের কথাবার্তার বাইরে গিয়ে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিরিক্ত স্বর্ণ ও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। যৌতুক দিতে না পারায় মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে পাঁচ-ছয়বার সালিশও হয়েছে। পরে মেয়েকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। রবিবার মেয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসার পর তার শরীরে পোড়া দেখতে পান তারা।

ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দুপুরে আখি আক্তার নামে এক রোগীকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বুক ও পেটের ওপরের অংশে বার্ন রয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে এবং তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও থানায় মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত