হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ মিত্ররা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম

ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সহায়তা করার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে যাচ্ছে। একই সময়ে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দেশটির ইরান-সমর্থিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য সৈন্যদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে বৃহত্তর সংঘাত শুরু হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে হুথিরা ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং বারবার সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশটিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

হুথিরা জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারা সৌদি লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে; অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা হুথি যোদ্ধাদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

এর আগে সৌদি আরব পবিত্র শহর মক্কা, জেদ্দা এবং লোহিত সাগরের প্রধান তেল বন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বা গ্র্যান্ড মুফতি সৈন্যদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা হুথিদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র আওতায় বৈঠকে মিলিত হন। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা মক্কা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলার নিন্দা জানান এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "মন্ত্রীরা তিন দেশের চিফ অফ স্টাফ বা সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র আওতায় সৌদি আরবকে সহায়তা করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা; এই চুক্তিতে বলা হয়েছে যে, কোনো এক পক্ষের ওপর হামলা মানেই সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।"

বৃহস্পতিবার একটি মার্কিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যখন হুথিদের সঙ্গে ইরানের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন, ঠিক তার পরপরই এই বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পরদিন ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান 'স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার'-এ পেজেশকিয়ান বলেন, 'হুথিরা তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত