সাফল্যের শিখরে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টির ১৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান এডহক কমিটির গতিশীল নেতৃত্বে সুশাসন, শৃঙ্খলা, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংস্কারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন সঠিক অভিভাবকত্ব ও সুশাসনের অভাবে বিদ্যালয়টি নানা সংকটে ছিল। বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুজ্জাহান জাহান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলমের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। অভিভাবকদের বসার সুব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।

এডহক কমিটির প্রচেষ্টা ও শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের ফলে বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন অর্জিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগে থাকা ছোট অডিটোরিয়ামটি সম্প্রসারণ করে প্রায় ৬০০ মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক অডিটোরিয়ামে রূপ দেওয়ার সংস্কারকাজ চলছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভা, অভিভাবক সমাবেশ, বার্ষিক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। মহিলা শিক্ষক ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নামাজের স্থানও করা হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত বকেয়া পৌরকরের বিপরীতে বর্তমান পর্ষদের উদ্যোগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৬৬ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের লিভ টু আপিল (নম্বর-২৮৩১/২০২৫) মামলায় আদালত স্ট্যাটাসকো আদেশের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইনগতভাবে পালন করে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম বলেন, শিক্ষা বোর্ডের বিধি ও প্রবিধান শতভাগ অনুসরণ করেই বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের জটিলতা ও আর্থিক সংকট মোকাবিলা করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং প্রাথমিক শাখার অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে আমরা বদ্ধপরিকর। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা এবং ভালোবাসা আমাদের কাজের মূল অনুপ্রেরণা। এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই বর্তমান এডহক কমিটি, সব শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মূল লক্ষ্য।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত