ডিফেন্ডারদের ভুলে বড় হারে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

র‌্যাঙ্কিং আর পারফর্মের বিচারে মাঠের লড়াইয়ের আগে ঢের এগিয়ে ছিল মালয়েশিয়া। তবে অভিষিক্ত ফারহান আলী ওয়াহিদ ও শুকি ইতোফুসাদের সঙ্গে অভিজ্ঞ হামজা-শমিতদের নিয়ে সাজানো লাইন-আপ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে ডিফেন্ডারদের একের পর এক ভুলের বড় মাশুল দিতে হলো লাল-সবুকের প্রতিনিধিদের। এতে ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৬ নম্বর দল মালয়েশিয়া এবং ১৮২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের মধ্যকার এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফার নতুন এই টুর্নামেন্টে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসে মারাত্মক অস্বস্তিতে পড়ে টমাস ডুলির দল। বল নিজেদের পায়ে আসতেই প্রতিপক্ষের দুই-তিনজন খেলোয়াড় ঘিরে ধরায় নিচ থেকে আক্রমণ গড়ার কোনো স্বাভাবিক ছন্দই পায়নি হামজা-রাকিবরা।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ঘটতে পারত বিপত্তি। ফয়সাল হালিমের দূরপাল্লার শট সেখানে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ ফেরালেও মালয়েশিয়ার অবিরাম চাপে খেই হারাতেই থাকে ফেলে বাংলাদেশ।

তবে ম্যাচের ১৮ মিনিটে এসে সেই চাপের খেসারত দেয় হামজরা। নিজেদের অর্ধ থেকে নোয়া লাইনের উঁচু করে বাড়ানো লং বল বাংলাদেশের রক্ষণভাগের পেছনে চলে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে নেন আরিফ আইমান। সেখানে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুও ব্যর্থ হন শটের পথ আটকাতে। নিচু কোনাকুনি শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে নেন তাদের এই তারকা ফরোয়ার্ড।

সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠা হামজা-ফারহানরা মাঝেমধ্যে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলেও বোঝাপড়ার অভাবে তেমন  কোনো আক্রমণই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে ডিফেন্সের আরও একটি বড় ভুলে খেসারত দেয় বাংলাদেশ। ৩৭ মিনিটে বক্সের সামনে তপুর পায়ে বল দেখে স্টুয়ার্ট উইলকিন চাপ সৃষ্টি করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এই ডিফেন্ডার। সেই সুযোগে বল কেড়ে নিয়ে আরিফকে পাস দেন উইলকিন, আর গোলরক্ষক শ্রাবণের মাথার ওপর দিয়ে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফয়সাল হালিমের একটি বিপজ্জনক শট শ্রাবণ রুখে না দিলে ব্যবধান আরও বাড়ত। এতে ২-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় ডুলির দল।

বিরতির পর ম্যাচে ফিরতে শাহরিয়ার ইমন ও শুকি ইতোফুসাকে মাঠে নামান ডুলি। লক্ষ্যটা তো ছিল ম্যাচে ফেরাই, তবে উল্টো। তৃতীয় গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ৫২ মিনিটে করবিন লাভেরের লম্বা পাস বক্সে রিসিভ করে নিখুঁত নিচু শটে জালে বল পাঠান বার্গসন, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।  

তিন গোল হজম করার পর হারের ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মোরসালিন ও জিদান ইউসুফ মাঠে নামার পর মাঝমাঠে কিছুটা গতি বাড়ে দলের। ৭৬ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন হামজা চৌধুরী। তবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলকিপারের ক্ষিপ্রতায় তার জোরালো শট রুখে যায়। শেষ পর্যন্ত আর জালের দেখা পাওয়া হয়নি। 

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের এই হারের মধ্য দিয়েই ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের। আগামী সোমবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে লাল-সবুজরা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত