বিক্ষোভ, বিদ্যালয়ে তালা পুলিশ হেফাজতে শিক্ষক

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ এএম

দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কুমারুলী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান জামান সুজনকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আবু হানিফ বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আগামী রোববার থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চলবে। সঠিক তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না।

স্থানীয় অভিভাবক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ওই শিক্ষক তার প্রাইভেট সেন্টারে শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার পর থেকেই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক মহোদয় ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাই। সেখানে শিক্ষার্থী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমার কাছে স্বীকার করেছে। তার বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ডও রয়েছে।’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. চাঁন মিয়া বলেন, ‘গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচারপ্রার্থী হন। পরে অফিস সহকারীকে দিয়ে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই করা হয়। শিক্ষার্থী ঘটনার কথা জানিয়েছে। আমরা চাই, দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান জামান সুজন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কল্পকাহিনি। এলাকার একটি কুচক্রী মহল এবং স্কুলের শিক্ষক-স্টাফদের একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যাচার করছে।’ ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, বিস্তারিত জানার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে একাডেমিক সুপারভাইজারকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। বিদ্যালয়ের পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত