বিয়েবাড়িতে যাওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ চার যাত্রীর সন্ধান মেলেনি। গতকাল শুক্রবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে স্ক্যানারের মাধ্যমে নদীর তলদেশে অভিযান চালিয়ে গতকাল বিকেলে ডুবুরি দল ডুবে যাওয়া ট্রলার ও ট্রলারের সঙ্গে বাঁধা দুটি মৃত গরু ও একটি ছাগল উদ্ধার করেছে। গরু-ছাগলগুলো কুমিল্লার হোমনা থেকে ট্রলারযোগে সোনারগাঁওয়ে বিয়েবাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ট্রলারডুবির পর রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হলেও একই পরিবারের চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেনহেলালউদ্দিন, তার ছেলে সজীব হোসেন, সামিন হোসেন ও মেয়ে সামিয়া আক্তার। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের স্ত্রী শিরিন বেগম ও আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শিরিন বেগম জানান, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যপাড়া গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৪ যাত্রী একটি ট্রলারে করে রওনা হয়। তাদের সঙ্গে বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল। বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারটি সোনারগাঁও উপজেলার কাছাকাছি সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই সময় একটি ট্রলার এগিয়ে এসে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।
সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে একটানা রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালায়। পরে আবার গতকাল সকাল ৭টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ঢাকা থেকে নিয়ে আসা উন্নত প্রযুক্তির স্ক্যানারের সাহায্যে নদীর তলদেশে স্ক্যান করে গতকাল বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলারসহ দুটি মৃত গরু ও একটি মৃত ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ শাহ কামাল জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।