যশোরের শার্শায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার উলাশী ডাকবাংলা-যদুনাথপুর সড়কে ৪৫ মিটার চেইনএজে একটি ১১৪ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন আর্চ গার্ডার সেতু নির্মিত হতে যাচ্ছে। উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ মেগা প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অবদান রেখেছেন। তার বিশেষ ডিও লেটারের (আধাসরকারি পত্র) ফলেই শার্শাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির দ্রুত অনুমোদন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
প্রকল্প অনুমোদনের ওই চিঠি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চিঠির তথ্যানুযায়ী, দৃষ্টিনন্দন এই আর্চ গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩ টাকা। সংযোগ সড়কের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার ৮১১ টাকা।
ই-জিপি পোর্টালের মাধ্যমে ‘এক ধাপ দুই খাম’ পদ্ধতিতে দ্রুতই এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ কাজটি শেষ করতে হবে।
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক স্বাক্ষরিত অনুমোদন পত্রে কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। শর্তানুযায়ী-দরপত্র আহ্বানের পূর্বেই গ্লোবাল জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্রিজের নিখুঁত লে-আউট দিতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএ বা হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের সহায়তায় স্ট্যান্ডার্ড হাই ওয়াটার লেভেল মেপে সেতুর সঠিক উচ্চতা বা ‘ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে, যেন বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচলে কোনো বিঘœ না ঘটে।
কাজের শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্রিজের পাইলিংসহ নির্মাণকাজের ‘রিয়েল টাইম মনিটরিং’ এবং ভিডিও ফুটেজ প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠাতে হবে। ল্যাব টেস্টের ফল সন্তোষজনক না হলে ঠিকাদারকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না বলেও অনুমোদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।