রাজধানীর সূত্রাপুরে তুচ্ছ বিষয়ে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে দেওয়া আগুনে ছেলের পর মারা গেলেন বাবাও। নিহতের নাম সিদ্দিক ব্যাপারী। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি মারা যান। এর আগে তার ছেলে ইমন মারা যান। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সূত্রাপুর শ্যামবাজার চমকটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সিদ্দিক বেপারী, তার ছেলে মো. ইমন, ইমনের চাচাতো ভাই রাজিব, ফুফাত ভাই আরিফুর রহমান ধলু এবং ফুফাত বোন তানিয়া আক্তার দগ্ধ হন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, সিদ্দিক ব্যাপারীর শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে রাজিব ১৫ শতাংশ, আরিফ ৮ শতাংশ ও তানিয়া ৬০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছেন। এই তিনজনের মধ্যে তানিয়ার অবস্থা ‘আশঙ্কজনক’ বলে জানান তিনি।
দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, দগ্ধরা সবাই পাশাপাশি থাকেন। ইমন সৌদি আরব প্রবাসী। রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করে, তার স্বামী ধলু ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি আর তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্স পড়ে। তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখে। এটি দেখে তানিয়া পানি পরিষ্কার করতে বলে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সুলতানা সৌদি আরব প্রবাসী ভাই ইমনকে বিষয়টি জানালে ইমন গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসে। পরদিন শনিবার বিকেলে ইমন ‘আমিও মরব, তোদেরও মারব’ এই হুমকি দিয়ে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢালে এবং বাকিদের শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সবাই দগ্ধ হয়।