যৌন নিপীড়নের মামলায় হলিউডের সাবেক প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনকে নিউইয়র্কের একটি আদালত ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ আইনি জটিলতা, আপিল ও পুনর্বিচারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের আদালতের বিচারক কার্টিস ফারবার এই সাজা ঘোষণা করেন।
২০০৬ সালে সাবেক প্রযোজনা সহকারী মিরিয়াম হ্যালিকে তার ম্যানহাটন অ্যাপার্টমেন্টে যৌন নিপীড়ন করার অপরাধে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। ওয়াইনস্টিনের এই দীর্ঘ আইনি লড়াই ২০২০ সালের প্রথম রায় ও বাতিল করা হয়।
ওই বছর একই অপরাধে এবং অভিনেত্রী জেসিকা ম্যানকে ধর্ষণের দায়ে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় বাতিল করে এবং নতুন করে বিচারের নির্দেশ দেয়। আদালতের যুক্তি ছিল, মামলায় মূল ঘটনার বাইরের অন্যান্য নারীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়মানুযায়ী পক্ষপাতমূলক ছিল।
২০২৫ সালে পুনর্বিচারের পর জুরি বোর্ড মিরিয়াম হ্যালির মামলায় ওয়াইনস্টিনকে আবারও দোষী সাব্যস্ত করে। তবে অন্য একজন মডেল এবং জেসিকা ম্যানের আনা ধর্ষণের অভিযোগে জুরিরা একমত হতে না পারায় মামলাটি ঝুলে যায়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুনে প্রসিকিউটররা জেসিকা ম্যানের মামলাটি আর না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান সাজার পথ পরিষ্কার হয়।
নিউইয়র্কের এই ১৫ বছরের সাজা ছাড়াও ২০২২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত তাকে অন্য একটি ধর্ষণ মামলায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে নিউইয়র্কের পূর্বের রায় বাতিলের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার আপিল আদালত তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখলেও সেখানে তাকে পুনরায় সাজা দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।
৭৪ বছর বয়সী হার্ভি ওয়াইনস্টিন বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির হন। তিনি আদালতে নিজের নির্দোষিতা দাবি করে এলেও বিচারক মন্তব্য করেন যে ওয়াইনস্টিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারীদের ওপর জোর খাটিয়েছেন এবং নিজের অপরাধের দায় কখনো স্বীকার করেননি।
হার্ভি ওয়াইনস্টিনের প্রযোজনা সিনেমা শেক্সপিয়র ইন লাভ ১৯৯৮ সালে সেরা চলচ্চিত্রের অস্কার লাভ করে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া