রাজধানীর বাড্ডায় পৃথক ঘটনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে দুইজনসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আলআমিন (২৫) ও সাইফুল ইসলাম (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আর মো. আব্দুল্লাহ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে। তিনজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বাড্ডার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তারা সবাই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত আলআমিন বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুলের পেছনে থাকেন। তার বাবার নাম বাবুল সেলিম। তিনি একজন প্রবাসী। আলআমিনের বন্ধু মো. রাসেল জানান, রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুলের পেছনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন আলআমিন। এ সময় সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে গুলাগুলি চলছিল। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গেলে আলআমিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয় আব্দুল্লাহ (১৬) নামে এক কিশোর। সে স্থানীয় একটি স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার বাবার নাম আবুল হোসেন। মধ্য বাড্ডার ১১ নম্বর স্মরণীতে তার বাসা।
আব্দুল্লাহর মামা কাউসার তারেক জানান, রাতে আব্দুল্লাহ তার দুই বন্ধুর সঙ্গে বাইরে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। তার দাবি, আব্দুল্লাহ কোনো পক্ষের হয়ে সেখানে যায়নি।
অন্যদিকে, মেরুল বাড্ডা বাজার গলিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন সাইফুল ইসলাম। তিনি পেশায় রেফ্রিজারেটর মেকানিক। তার বাবার নাম আবুল কালাম। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় তার বাড়ি। বর্তমানে তিনি মধ্য বাড্ডার মোল্লা বাড়ি এলাকায় থাকেন।
সাইফুলের বাবা বাসচালক আবুল কালাম জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন তার ছেলে। বাসার কিছুটা দূরে হেলমেট পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথ আটকে দেয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাইফুল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। এতে তার ডান পায়ে দুটি গুলি লাগে।
রক্তাক্ত অবস্থায় একটি দোকানের সামনে গিয়ে পড়ে যান সাইফুল। পরে দোকানদারের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আবুল কালাম বলেন, তার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কেন সাইফুলকে গুলি করা হয়েছে, তা তারা জানেন না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, রাতে পৃথক ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন হাসপাতালে এসেছিলেন। চিকিৎসা শেষে তারা সবাই হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে গেছেন। ঘটনাগুলো বাড্ডা থানা পুলিশ তদন্ত করছে।