আদাবরে ভবন দখলচেষ্টা: পু‌লি‌শের ওপর হা‌মলা, গ্রেপ্তার ৪

ভবন দখলের চেষ্টায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ, আত্মরক্ষার্থে গুলিতে দুইজন আহত হন।

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

রাজধানীর আদাবরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি ভবন দখলের চেষ্টায় হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আহত দুইজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজার সংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর।

পুলিশ জানায়, ভবন দখলের চেষ্টায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চলছিল। এরই মধ্যে কয়েকজন অভিযুক্ত খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

ওসি জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জনকে দেখা যায়। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে তারা হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশের এক সদস্য দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে দুইজন আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাজিব ও সাগর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক বার্তায় জানিয়েছে, আদাবরে চাপাতি দিয়ে একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ।

এর আগে গত শনিবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের প্রথম প্রকল্পের ৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ফটক, জানালা এবং নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ওই হামলা চালায়।

ভবন মালিকের স্বজনদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একইভাবে স্থানীয় খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি ভবনটির দখল নিয়েছিলেন। আদালত ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ মার্চ মালিকরা ভবনটির দখল ফিরে পান। এর কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও ভবনটিতে হামলার ঘটনা ঘটে।

ভবন মালিকের স্বজনদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি সহায়তা পাননি।

হামলার পুরো ঘটনা একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে প্রথমে মুখে মাস্ক পরা একজনকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর অস্ত্র হাতে একদল তরুণ এসে বাড়ির তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা একে একে ভাঙচুর করে। পরে জানালা ও প্রধান ফটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায় তাদের।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদাবর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত