ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাস ভাড়া সমন্বয় নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ ৪ ঘন্টা ধরে চলা সভায় যাত্রী অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা বাস ভাড়া কমানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া দাবি করলেও বাস মালিকরা সেটা মানেনি। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বাস মালিকরা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় সভাটি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান, সেটা আমরা নষ্ট করতে চাই না। আবার আন্দোলন, সংগ্রাম কিংবা বাস বন্ধ এমন পরিস্থিতিতেও আমরা যেতে চাই না। দীর্ঘ আন্দোলনের পর নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সবাই সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, কোনো বিতর্ক তৈরি হোক, এটাও চাই না।’
তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে দুইবার তেলের দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষ যেমন সমস্যায় পড়েছে, বাস মালিকেরাও তা জানেন। বাস মালিকদের কষ্টের কথাও আমরা বুঝি। কিন্তু এই ইস্যুর সমাধান না হলে একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কোনোভাবে আগুন জ্বালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে পরে পানি দিয়ে ঠান্ডা করার দরকার নেই।’
রফিউর রাব্বি আরও বলেন, ‘গত এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের যে ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারিত ছিল, আমাদের দাবি ছিল ৩০ টাকা। আমরা ৩৫ টাকা বলেছি মূল ভাড়া কমিয়ে আনার জন্য। মূল ভাড়া কমানো না গেলে আমাদের এই প্রস্তাব থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণ যাত্রীর ভাড়া ৫৫ টাকা বলছি, আর বাস মালিকেরা ৬০ টাকা বলছেন। মাঝামাঝি একটি জায়গায় আনার জন্য ৫৭ টাকা একটি প্রস্তাব এসেছে। আমি ৫৮ টাকার কথাও বলেছি। শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৫ টাকা থাকবে। এটি মানলে একরকম সমাধান হতে পারে, না হলে কিছু করার থাকবে না।’
এদিকে বাস মালিকপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ টাকা এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য ৬০ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানায়।কিন্তু শিক্ষার্থীরা বাস ভাড়া কমানোর দাবি জানালে বাস মালিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতন্ডায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে বাস মালিকরা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে চলে যান।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বাস ও শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা চলছিল। সেই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষের কথা শুনেছি এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো শুনেছি। উভয় পক্ষকে কিছুটা ছাড় দিয়ে এমন একটি অবস্থানে আসতে বলা হয়েছে, যাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং বাস মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলেও পুরোপুরি সমাধানে তারা এখনো আসতে পারেননি। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৩৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে। আর বাস মালিক সমিতির দাবি, শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৫ টাকা রাখতে হবে। সাধারণ ভাড়ার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু কোনো কনক্রিট প্রস্তাবে আমরা এখনো উপনীত হতে পারিনি।’