অমর প্রাণী ‘টারিটোপসিস ডোরনি’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ এএম

‘টারিটোপসিস ডোরনি’ নামের বিশেষ প্রজাতির জেলিফিশকে জৈবিকভাবে ‘অমর জেলিফিশ’ বলা হচ্ছে। এরা বার্ধক্য বা স্বাভাবিক কারণে মারা যায় না, বরং তারা জৈবিকভাবে অমর। মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা থাকলে, এরা বার্ধক্যের উল্টো পথ ধরে। শরীরের সব কোষকে নতুন কোষে রূপান্তর করে জেলিফিশটি বয়স কমিয়ে ফেলে। এভাবে বারবার নিজেকে রূপান্তরের মাধ্যমে তারা বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখে। তবে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই জেলিফিশ অত্যন্ত ক্ষুদ্র, মাত্র ৪.৫ মিলিমিটার চওড়া ও লম্বা, যা মানুষের হাতের ছোট নখের চেয়ে  ছোট। এদের কোনো মস্তিষ্ক, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা হৃৎপিণ্ড নেই। শরীর স্বচ্ছ ও ঘণ্টা আকৃতির। বয়স বাড়লে, অসুস্থ হলে বা খাদ্যাভাব ও আঘাতের মতো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এরা মারা না গিয়ে, জীবনচক্র উল্টে দেয়। এরপর সমুদ্রের তলদেশে থিতু হয়ে আবার পলিপ দশায় ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়ায় এদের প্রাপ্তবয়স্ক কোষগুলো পুনরায় রূপান্তরিত হয়ে তরুণ পলিপ উপনিবেশ তৈরি করে এবং নতুন জীবনচক্র শুরু করে। মূলত ভূমধ্যসাগর ও জাপানের সমুদ্রে তাদের দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, এই বিশেষ প্রজাতির জেলিফিশকে অমরত্বের  শ্রেণিতে রাখা যেতে পারে। কারণ, এরা যতদিন চায়, ততদিন  বেঁচে থাকতে পারে। এখন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, এই জেলিফিশ বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষেরও অমরত্ব প্রাপ্তির পথের সন্ধান মিলতে পারে। বংশবিস্তারের ক্ষমতাসম্পন্ন জেলিফিশগুলো একমাত্র অমর এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত