অনিককে রিহ্যাবে পাঠানো হলো

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

চুরির অপবাদে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা অনিক সরদারকে পাঠানো হয়েছে মাদক নিরাময় চিকিৎসাকেন্দ্র রিহ্যাবে। স্বামী অনিক সরদার আলোর পথে ফিরলেও নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস। কারণ উপার্জনক্ষম ব্যক্তি রিহ্যাবে থাকলে মেয়ের পড়ালেখা আর সংসার কীভাব চলবে সে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে তার। শিকলে বাঁধা বাবাকে খাবার তুলে দিয়ে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া তুবা আক্তার (৯) এবং তুরিন ইসলাম তুনা (৩) নামে তাদের দুই কন্যাশিশু রয়েছে।

অনিক বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার বাসিন্দা। গত শনিবার সকালে অনিকের মুখে খাবার তুলে দেয় মেয়ে তুবা। সেই দৃশ্য দেশ রূপান্তর ডিজিটাল মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হলে তা দেশ-বিদেশে ব্যাপক অলোচিত হয়। মাদক থেকে মুক্ত করতে অনিককে বরিশালের নিউ লাইফ নামক একটি বেসরকারি মাদকদ্রব্য নিরাময় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে বামরাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল। তিনি বলেন, ধর্ম ত্যাগ করে প্রতিবেশী অনিকের হাত ধরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর পিতামাতা খোঁজখবর রাখে না। দুই শিশুকন্যা ও স্বামী অনিক ছাড়া আপনজন বলতে কেউ নেই। বর্তমানে তার শ্বশুরের ভিটায় দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করলেও তাদের আয়ের কোনো উৎস নেই। স্বামী মাঝে মধ্যে দিনমজুরের কাজ করলেও এখন রিহ্যাবে নেওয়ার পর সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেল। মেয়ের পড়ালেখা আর সংসসার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এইচএসসি পাস করা জান্নাতুল ফেরদাউসকে চাকরি দিয়ে সাহয়তা করলে সংসারের হাল ধরতে চান তিনি।

শিশু তুবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পড়ালেখা করতে চাই। তার দাদা উচ্চ আদালতে চাকরি করেছিলেন। সামাজিকভাবে ভদ্র পরিবারের উত্তরসূরি তুবা ভবিষ্যতে বিচারক হতে চায়। তার বাবার মতো কোনো মানুষকে তিনি হেনস্তার শিকার হতে দেখতে চান না। বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তুবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, বাবাকে শতশত মানুষের সামনেই হেনস্তা করা হয়। আমি না থাকলে ওরা হয়তো বাবাকে মেরেও ফেলত।

ইউএনও মো. আলী সুজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। তিনি একাধিকবার ওই পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন সরকারিভাবে আর্থিক সাহায্য করা হবে পরিবারটিকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত