ঘটনাস্থল রাজধানীর উপকণ্ঠ খিলগাঁও থানাধীন ত্রিমোহনী এলাকার ব্যস্ততম মাদবরবাড়ী সড়ক। মূল সড়কের পাশ থেকে একটি গলির রাস্তা যুক্ত হয়েছে। ঠিক ওখানটাতেই বিদ্যুতের খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহ আগে ট্রলি ট্রান্সফরমার বসিয়ে এলাকাটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সড়কের ওপর বসানো ওই ট্রলি ট্রান্সফরমারের কারণে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিপরীত দিক ও গলি থেকে আসা অপর পরিবহন অতিক্রম করতে হলে এক পাশের যানবাহনকে প্রায়ই অপেক্ষমান থাকতে হয়। যে কোনো সময় দ্রুতগতির ট্রাক এসে ট্রলি ট্রান্সফরমারকে আঘাত করলে ঘটতে পারে বড় রকমের দুর্ঘটনা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও স্থানীয়রা।
গতকাল বুধবার এ ব্যাপারে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বনশ্রী সাব জোনে যোগাযোগ করা হলে কমপ্লেইন সুপারভাইজার মো. সাকিব উল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েক দিন আগে ওখানকার ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়ে গেলে বিকল্প হিসেবে ট্রলি ট্রান্সফরমারটি দেওয়া হয়েছে। আপৎকালীন সময়ের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ওই ট্রলি ট্রান্সফরমার বসিয়ে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ওখানে আর কোনো বিকল্প স্থান না পাওয়ায় সড়কেই ট্রলি ট্রান্সফরমারটি বসানো হয়েছে। নতুন ট্রান্সফরমার পেলে দুয়েক দিনের মধ্যে ট্রলি ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেওয়া যাবে।
এদিকে, ঘটনাস্থলের মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট দূরে অবস্থিত মার্কেটের সবজি বিক্রেতা শাহীন বলেন, ‘দোকান খুলতেই ভয় লাগে কখন না জানি ট্রাক এসে মেরে দেয়। ক্রেতারাও এখন দোকানে দাঁড়িয়ে কিছু কিনতে ভয় পাচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহের আলী বলেন, ‘এই ট্রান্সফরমার নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। বাচ্চাদের কাছে আসতে বারণ করেছি। কিন্তু কে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে পাহারা দেবে?’
অটোযাত্রী রাবেয়া বলেন, ‘প্রতিদিন এই পথে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করি। ভয় লাগে, কখন না জানি এটা বিস্ফারণ হয়!’ অটোচালক রবি বলেন, ‘রাতে এই সড়কে ট্রাকগুলো দ্রুতগতিতে চলে। কখন কোন ট্রাক এসে ট্রান্সফরমারে আঘাত করে কে জানে! সেটি হলে ভয়াবহ বিপদ হবে।’