আর্লিং হালান্ডের নিস্প্রভ উপস্থিতি আর ওয়েলসের দুর্দান্ত ফুটবলীয় ডিসিপ্লিনে কার্ডিফ দেখল এক চমৎকার জয়, যেখানে ২-১ গোলে নরওয়েকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে ড্রাগনরা। এদিকে রাতের একই সময়ে আরেক ম্যাচে, থেসালোনিকিতে গ্রিসের বিপক্ষে প্রথম অর্ধে দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ ড্র নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস। এতে নতুন কোচ জাভির অধীনে এখনো অপরাজিত ডাচরা।
ওয়েলসের পুনরুত্থান ও হালান্ডের হতাশার রাত
কার্ডিফের মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল একটি জয় ছিল না, এটি ছিল ওয়েলস কোচ ক্রেইগ বেলমির জন্য এক বিশাল মানসিক মুক্তির মুহূর্ত। গত নভেম্বরের পর এটিই ছিল তার অধীনে দলের প্রথম জয়। চলতি বছরে মার্চের বিশ্বকাপ প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হৃদয়ভাঙা হার এবং গত রবিবার ডেনমার্কে দলের একবারে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে কোচ বেলমির ওপর পাহাড়সম সমালোচনা ও নেতিবাচকতা জমেছিল। তবে সব চাপ পেছনে ফেলে নরওয়ের বিপক্ষে এই দুর্দান্ত কামব্যাক জয় ডাগআউটে তার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেরাল।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় ড্রাগনরা। ১১ মিনিটে অস্কার ববের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গেলে কার্ডিফের মাঠে অস্বস্তি ফিরে আসে। তবে দমে না গিয়ে দ্রুতই খেলায় ফিরে আসে স্বাগতিকরা। সোরবা থমাসের নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক শটে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ড্যানিয়েল জেমস গোল করে সমতা ফেরান (১-১)।
বিরতির পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর মাত্র ১৭ সেকেন্ডের মাথায় ড্যানিয়েল জেমসকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন নরওয়ের টরবায়োর্ন হেগেম। ফলস্বরূপ পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে চোখ ধাঁধানো এক বুলেট গতির শটে লক্ষ্যভেদ করে ওয়েলসকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন নেকো উইলিয়ামস। ম্যাচের বাকি সময়ে হালান্ডরা তেড়েফুঁড়ে এলেও ওয়েলসের রক্ষণ দুর্গ আর ভাঙতে পারেনি।
এমন হারে পর ম্যাচ শেষে নরওয়ে ও আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড হতাশা প্রকাশ করে জানান, ‘দীর্ঘদিন পর এটি যেন মুখের ওপর প্রথম জোরালো কিল খাওয়ার মতো অনুভূতি। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে, একসাথে থাকতে হবে এবং লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
অন্যদিকে, দীর্ঘ খরা কাটিয়ে প্রথম জয় তুলে নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভেতরের আবেগ ও সাম্প্রতিক সামাজিক চাপ নিয়ে ওয়েলসের কোচ ক্রেইগ বেলমি জানান, ‘বসনিয়ার কাছে হারের পর থেকেই আমি নিজের ভেতর হতাশা অনুভব করেছি এবং সমালোচনাও সহ্য করেছি। গ্রীষ্মের সময়টা সহজ ছিল না... এটি আমার কাছে খুবই কঠিন কয়েক মাস ছিল। তবে আপনি যদি এই পথে পা রাখতে চান, তবে এটাই বাস্তবতা। আমাদের কি একে অপরের পাশে আরেকটু দয়াশীল হওয়া যায় না?”
জাভির ডাচদের নাটকীয় কামব্যাক
গ্রিসের থেসালোনিকিতে অন্য এক নাটকের মঞ্চায়ন ঘটেছিল। গ্রুপ এ২-এর এই ম্যাচে প্রথমার্ধেই দারুণ ফর্মে থাকা গ্রিসের কাছে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল জাভি হার্নান্দেজের ডাচরা। ফোতিস আইওয়ানিদিস এবং গিওর্গোস মাসৌরাসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল নেদারল্যান্ডস।
তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিয়ে মাঠে নামে তারা। ৫৯ মিনিটে জোয়ি ভিরমানের কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ও দলপতি ভার্জিল ফন ডাইক।
এরপর ডাচরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও গ্রিসের রক্ষণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি ভিএআর-এর কল্যাণে একটি গোলও বাতিল হয়। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এসে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। ৮৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জোশুয়া জিরকজির পাস থেকে দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে ডাচদের মহামূল্যবান ১ পয়েন্ট এনে দেন মিডফিল্ডার তিজানি রেইজিন্দার্স। এই নাটকীয় ড্রয়ের পরও গ্রুপ এ২-এর শীর্ষস্থান ধরে রাখল গ্রিস, আর ডাচরা অবস্থান করছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে।
সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নবম বাংলাদেশের মেয়েরা