হাসিনাকে আশ্রয় না দেয়ার বিকল্প ছিল না: ত্রিবেদী

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পেছনে দেশটির বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনীর কোনো ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
 
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের করা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়টিতে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। যেহেতু এই বিষয়টি দেশটির আদালতের এখতিয়ারভুক্ত, তাই এর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনার প্রশ্নোত্তর পর্বে দীনেশ ত্রিবেদী এ কথা জানান।
 
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার ইতোমধ্যে একাধিকবার পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে এই বিষয়ের পেছনে একটি নির্দিষ্ট আইনি পথ রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সুবিন্যস্ত ও আইনি কাঠামোর আওতাধীন। তাই বলা চলে, এই সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।’
 
তবে বিষয়টি আদালতের অধীনে থাকায় সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছাড়ার মুহূর্ত এবং প্রেক্ষাপট স্মরণ করে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, তৎকালীন হঠাৎ উদ্ভূত চরম সংকটময় পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, ‘পেছনে ফিরে তাকালে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভারতীয় বিমানবাহিনী কিংবা সেনাবাহিনী হাসিনাকে ভারতে নিয়ে যায়নি।’
 
সে সময় বাংলাদেশে যে 'দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি' তৈরি হয়েছিল, বিশ্বের কোথাও যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে—সেই প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন তিনি।

ঘটনার সময়ের আইনি ও কূটনৈতিক দিক তুলে ধরে ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, ভারতে পৌঁছানোর মুহূর্তটিতে শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। একজন নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত সাড়া দিতে হয়েছিল।
 
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখছিলাম, তিনি হয়তো অন্য কোনো দেশে চলে যাচ্ছেন। তৎকালীন সময়ে প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে খুব বেশি বিকল্প খোলা ছিল না। কারণ অনেক সময় এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সামনে চলে আসে, যার জন্য আগাম প্রস্তুত থাকা সম্ভব হয় না।’

ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তে ভারতের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের সামনে কী করার ছিল? ভারত যদি তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাত কিংবা তার বহনকারী ফ্লাইটকে অবতরন করতে না দিত, তবে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত—তা বলা কঠিন।’

তবে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়ে ভারতীয় বিচার বিভাগের স্বাধীন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী নিশ্চিত করেন, ভারতের বিচার বিভাগ এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত দুটি দেশকেই ‘প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিষয়টি সুরাহা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে দেশত্যাগের পর থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ইতোমধ্যে একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
 
গত আগস্ট মাসে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই প্রত্যর্পণ ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন।
 
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয় যে প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক কাঠামোর সংগতি রেখেই ঢাকার করা অনুরোধটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত