পরিচালনা যাচ্ছে দুবাইয়ের হাতে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ এএম

অবশেষে বিদেশিদের হাতেই যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ের হাতে যাচ্ছে বন্দরের প্রধান দুই টার্মিনাল এনসিটি ও সিসিটি। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবাহিত মোট কনটেইনারের ৬০ শতাংশ হ্যান্ডলিং হওয়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দুটি যাচ্ছে এই দুই দেশের হাতে। ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরব পিসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। এখন এনসিটি পরিচালনায় আসতে যাচ্ছে দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এনসিটি টার্মিনালটি বিদেশি অপারেটরকে বরাদ্দ দিতে গত বৃহস্পতিবার সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রিসভার মিটিংয়ে খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই চুক্তিতে ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই খসড়া চুক্তির অনুমোদনের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের আরেক লাভজনক টার্মিনাল সিসিটিও পিপিপির (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মাধ্যমে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়েকে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

২৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো সেই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে আরএসজিটি কর্তৃক চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) জন্য অপারেটর নিয়োগের পত্রটি প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ২৩ বছরের পরিচালনার দায়িত্ব পায় সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে নামের প্রতিষ্ঠানটি। সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব সংস্থাটি নিতে চায় এমন চিঠি তারা দিয়েছিল গত বছর।

এনসিটি ও সিসিটি বিষয়ে জানতে কথা হয় নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এনসিটি বরাদ্দের বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। সেই কমিটি কনসেশন চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটি সমঝোতায় আসছে। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

গত বৃহস্পতিবার সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রিসভার মিটিংয়ে এই খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনুমোদনের বিষয়টি ব্রিফিংয়ে জানানোর কথা। এর বাইরে কিছু জানি না। তবে সিসিটি পরিচালনা করতে চায় রেড সি গেটওয়ে। তাই আমরা এর প্রক্রিয়া শুরু করতে পিপিপি কর্তৃপক্ষ তথা ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি মাত্র। আর এগুলো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’

সৌদি-দুবাইয়ের পর কোন দেশ? : ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে। এখন সিসিটিও পেতে চাইছি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ১৫ বছর পরিচালনার জন্য এনসিটি পেতে যাচ্ছে দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড। আর লালদিয়ায় আসছে ডেনমার্ক। এ ছাড়া বে টার্মিনালের দুটি টার্মিনালের একটি পেতে যাচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং অপরটি পিএসএ সিঙ্গাপুর। এখানে আরও একটি টার্মিনাল বরাদ্দ পেতে নতুন কোনো দেশ আসতে পারে। মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র পরিচালনায়ও বিদেশি অন্য দেশ দায়িত্ব পেতে পারে।

বিদেশিদের হাতে বন্দর দেওয়া যাবে না : চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ না দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে আসছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। এর আগে বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি বরাদ্দ দিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। কিন্তু গত ২৯ জানুয়ারি থেকে বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছিলেন শ্রমিক কর্মচারীরা। পরে তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চুক্তির কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে এসেছিলেন শ্রমিক কর্মচারীরা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৪ জুন নৌ মন্ত্রণালয়ের সভা শেষে আবারও সেই চুক্তির নেগোসিয়েশন শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন নতুন নেগোসিয়েশন কমিটি গঠনের সুপারিশও করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সেই নেগোসিয়েশনের অনুমোদন দিল গত বৃহস্পতিবার। এর প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সরকার। এই সরকারের পক্ষে এমন দেশবিরোধী কাজ হতে পারে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ জানাব এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের রাস্তা বের করে আনব। তবে কোনোভাবেই এনসিটিকে বিদেশিদের হাতে দিতে দেব না।’

তিনি বলেন, এনসিটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রচেষ্টায় পূর্ববর্তী সরকার যেমন সফল হয়নি; তেমনিভাবে এই সরকার যদি চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারী ও দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে আমরাও এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি চিন্তা করব।

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর জনগণের সম্পদ। এখন এই সম্পদ বিদেশিদের বরাদ্দ দিতে সরকারের একটি লোলুপ শ্রেণি আগে যেমন সক্রিয় ছিল এখনো আছে। আমাদের কাজ হলো এই সম্পদ যাতে বিদেশিদের দিতে না পারে সেজন্য জনগণকে সচেতন করে তাদের নিয়ে এগিয়ে চলা। আমরা এই কাজটাই করছি।’

এ নিয়ে কোনো কর্মসূচি আছে কি না? এই প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার মজুমদার বলেন, শনিবার (আজ) এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। এ ছাড়া পূর্বঘোষিত কর্মসূচি রয়েছে আগামী সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের অনেকগুলো পক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া সব পক্ষ একত্রিত হয়ে অথবা ভিন্ন ভিন্নভাবে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।

ট্যারিফ ও টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন নিয়ে ব্যবহারকারীদের শঙ্কা : চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ নির্ধারণ কার কাছে থাকবে কিংবা টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন কী হবে, তা নিয়ে ভয় বন্দর ব্যবহারকারীদের। এ বিষয়ে কথা হয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা ব্যবহারকারীরা আগেও বলে এসেছি, এখনো বলছি দ্রুত পণ্যের খালাস চাই। ওয়ার্ল্ডক্লাস বন্দরের ফ্যাসিলিটি আমরা চাই। আর তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিদেশি বা দেশি-বিদেশি যৌথ কোম্পানি বন্দর পরিচালনায় আসতে পারে। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে বন্দরের ট্যারিফ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকছে। একই সঙ্গে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনগুলো ব্যবহারকারীদের পক্ষে থাকছে কি না। যদি থাকে তাহলে সমস্যা নেই, না থাকলেই শঙ্কা থাকছে।

নৌ সচিব যা বললেন : বিদেশি অপারেটর নিয়োগ বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, আমরা উন্নত সেবা চাই। আর সেই সেবা নিশ্চিতে আমরা প্রাইভেট অপারেটর নিয়োগ দিচ্ছি। বর্তমানে আরএসজিটি অনেক দ্রুত কাজ করছে এবং আগামীতে লালদিয়ায় ডেনমার্কের মায়ের্সক অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে রুমে বসেই নারীদের দিয়ে ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ অপারেট করবে। অর্থাৎ আমরা আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারব।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি তার কর্মক্ষমতার চেয়ে বেশি হ্যান্ডলিং করছে। সমস্যা হলো কাস্টমস ও বন্দরের প্রশাসনিক অন্যান্য বিভাগে। একই সঙ্গে কনটেইনারগুলো বন্দর থেকে বের হয়ে যেসব পথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাবে সেগুলো স্মুথ আছে কি না। তিনি বলেন, দেশের ৯৩ শতাংশ পণ্য হ্যান্ডলিং করা প্রধান বন্দরটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেব কি না তা অবশ্যই ভাবার বিষয়।

এনসিটি কেন চাহিদার শীর্ষে? : ২০০৭ সালে ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে এনসিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কি গ্যান্ট্রিক্রেনের মধ্যে ১৪টি এই টার্মিনালে রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবি (জেনারেল কার্গো বার্থ) ও সিসিটির (চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল) তুলনায় বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে এনসিটি। আর সবগুলোই দেশীয় অপারেটর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে পরিচালনা করছে পিসিটি (পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল)। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ এনসিটিতে, ৩৬ শতাংশ জিসিবিতে (জেনারেল কার্গো বার্থ), ১৬ শতাংশ সিসিটিতে এবং প্রায় ৪ শতাংশ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে হ্যান্ডলিং হয়েছে। এনসিটিতে একসঙ্গে চারটি জাহাজ ভিড়তে পারবে আর তাই সবার আগ্রহে এই এনসিটি।

গ্রিনফিল্ডে বিনিয়োগে আপত্তি নেই : চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের পক্ষে আন্দোলনকারী ইব্রাহিম খোকন বলেন, আমরা গ্রিন ফিল্ডে বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা করছি না। এর আগে বে টার্মিনালের তিনটি, লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিবাদ করিনি। কিন্তু আমাদের রেডিমেড পোর্ট (এনসিটি-সিসিটি) কেন বিদেশিদের দেওয়া হবে?

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, রেডিমেড বন্দরে বিনিয়োগ কম। যে দিন বিনিয়োগ করবে সে দিন থেকেই লাভ আসবে। কিন্তু গ্রিনফিল্ডে টার্মিনাল নির্মাণে সময় যেমন বেশি লাগবে তেমনি বিনিয়োগে টাকাও বেশি লাগবে। রিটার্ন আসতে দেরি হবে। এজন্যই বিনিয়োগকারীরা গ্রিনফিল্ডের তুলনায় রেডিমেডে বিনিয়োগে আগ্রহী বেশি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ল্যান্ড লর্ড (সরকারের ভূমিতে প্রাইভেট বিনিয়োগে বন্দর নির্মাণ) পদ্ধতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এজন্যই বে টার্মিনালে নির্মাণ হতে যাওয়া তিনটি টার্মিনালের মধ্যে দুটির একটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং অপরটিতে পিএসএ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে। পতেঙ্গার লালদিয়ায় চুক্তি হয়েছে ডেনমার্কের এপিমুলারের সঙ্গে। অন্যদিকে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরেও বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান চারটি টার্মিনালের (জিসিবি, এনসিটি, সিসিটি ও পিসিটি) মধ্যে সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে এনসিটি। এই এনসিটির (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল) ওপর ভর করেই চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আহরিত হচ্ছে। তাই অনেকে এনসিটিকে ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ও বলে থাকেন। এটি পাওয়ার জন্য শেখ হাসিনার সরকারের সময় থেকে অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যায় দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড। তাদের আলোচনার মাঝে দেশীয় কোম্পানি এমজিএইচ প্রস্তাব দেওয়ার পর আরও তিন কোম্পানি একটি কনসোর্টিয়াম করে প্রস্তাবনা দিয়েছে সরকারের কাছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়েও পেতে চাইছে সিসিটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত