মানিকগঞ্জের শিবালয়ে নির্ধারিত দুটি এলপিজি সরবরাহকারী পাম্পে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের মালিক-চালকরা। এর আগে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পাম্প দুইটিতে এলপিজি সরবরাহ করা হলেও মজুদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে গ্যাস সরবরাহ না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে যানবাহনের চালকরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার উথলী-পাটুরিয়া সংযোগ মোড়ের সারমানো ফিলিং স্টেশন ও রবইগাইলে মধুমতি সিএনজি পাম্পে ঘুরে দেখা গেছে, দুটি প্রতিষ্ঠানেই এলপিজি সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সারমানো ফিলিং স্টেশনে প্রায় ১৮ দিন আগে ১০ টন এলপিজি সরবরাহ করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ওই গ্যাস যানবাহনে বিক্রি করার পর গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পটিতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
মধুমতি সিএনজি পাম্পের সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ১৫০ লিটার এলপিজি মজুদ করা হয়। বিক্রির পর সেখানেও গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। ফলে গ্যাস নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে চালকদের।
সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক সুমন হোসেন বলেন, ১ অক্টোবর সকালে মধুমতি পাম্পে এলপিজি নিতে এসেছিলাম। পাম্পে গ্যাস আছে দেখে গাড়িতে থাকা যাত্রীকে উথলীতে নামিয়ে পাম্পে আসি। পরে দেখি পাম্পকর্মীরা গ্যাস দিচ্ছেন না। আজও গ্যাস নিতে এসেছি। কিন্তু তারা বলছেন, পাম্পে গ্যাসের মজুদ নেই। গ্যাস ছাড়া গাড়ি কীভাবে চালাব।
চালক মো. আশরাফুল বলেন, এপাম্পে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছি। সেখান থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে লোক পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। গ্যাসের সংকটের কারণে গাড়ি চালাতে না পারায় পরিবারে খাবার জোগাড় করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
চালক মো. শরীফ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে এ রুটে গাড়ি চালাচ্ছি। সকালে গার্মেন্টসকর্মীদের নিয়ে যাতায়াত করি। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস না পাওয়ায় কোনো আয় নেই। গ্যাস আসার খবর পেয়ে মধুমতি পাম্পে এসেছিলাম। কিন্তু তারা বলছে গ্যাস নেই। গ্যাস না থাকায় গাড়িটি আরিচা ঘাট এলাকায় রেখে বাড়িতে যেতে হচ্ছে। গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কি না, সেই ভয়ও আছি।
সারমানো ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ১০ টন এলপিজি সরবরাহ পাওয়ার পর আর কোনো মজুদ পাওয়া যায়নি। আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোনো সদুত্তর পাইনি।
মধুমতি সিএনজি পাম্পের ম্যানেজার পুলক কুমার ঘোষ বলেন, গত ১ অক্টোবর এক টন এলপিজি নিয়ে একটি সরবরাহ ভ্যান পাম্পে এসেছিল। কিন্তু সেটি নেওয়া হয়নি। কারণ আগের তুলনায় ১৮ হাজার টাকা দাম বাড়তি চেয়েছিল এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কম ছিল।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকারের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।