শিবালয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন মমতাজ বেগম (৫০)। স্বজনদের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনার পরও তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে জরুরি বিভাগেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মমতাজ বেগম পাশের ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দুপুর পৌনে ১টার দিকে মমতাজ বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মাথায় পানি দিয়ে দ্রুত শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর তার অবস্থা গুরুতর জানিয়ে দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ করেন স্বজনরা। কিন্তু সেখানে অন্য রোগীকে আগে দেখা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাদের।

নিহতের এক ভাতিজি বলেন, হাসপাতালে আনার পর চাচি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরে একজন মেডিকেল অফিসার তার প্রেসার ও পালস পরীক্ষা করে অক্সিজেন দেন। একপর্যায়ে রোগীকে পানি না দেওয়ার জন্য বলা হয় এবং মানিকগঞ্জে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে বলা হয়। স্বজনরা রোগীর অবস্থা গুরুতর জানিয়ে তাকে ভালোভাবে দেখার অনুরোধ করেন। পরে ইসিজি করে রোগী জীবিত থাকার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নিহতের ছেলে আফসার বলেন, ‘দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন।’

নিহতের ভাতিজা সাগর বলেন, ‘চাচি পায়ে হেঁটেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর বারবার তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আমরা চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলেও সেভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে চাচি মারা যান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সেকমো তোফায়েলের ছেলে আমাদের ওপর হামলা করে।’

তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের সেকমো তোফায়েল। তিনি বলেন, ‘রোগী যখন ম্যাডামের দক্ষিণ পাশে বসা ছিলেন, তখন কোনো সিমটম ছিল না। আমরা কয়েকজন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দিয়েছি। রোগী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা আমার গায়ে হাত তোলেন। রোগীর স্বামী বাবুল হোসেন আমাকে আঘাত করলে আমার ছেলে এসে ফিরিয়ে দেয়।’

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শাম্মী আক্তার বলেন, ‘জরুরি বিভাগে একজন নারী রোগী আসেন। তিনি সম্ভবত বাসায় অজ্ঞান হয়ে ছিলেন। হাসপাতালে আসার পর রোগীকে দেখার আগেই তিনি আবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। চিকিৎসা চলাকালীন তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে মানিকগঞ্জে রেফার করা হয়। কিন্তু নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।’

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে ডা. শাম্মী আক্তার বলেন, ‘যখনই দেখেছি রোগীর অবস্থা খারাপ, তখনই তাকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। রোগী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ভুল স্বীকার করেছি।’

এদিকে, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের লোকজনের হাতাহাতির খবর পেয়ে শিবালয় থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে একজন রোগী মারা যাওয়ার পর তার স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় সেখানে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান ভূইয়া শনিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে উপজেলার বাইরে সরকারি প্রশিক্ষণে রয়েছি। রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। রোগীর স্বজনদের কোনো অভিযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।’

মমতাজ বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত