গবেষণাগারে তৈরি জ্ঞান ও উদ্ভাবন—শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে তা পৌঁছে দিতে হবে শিল্পখাতে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এমন লক্ষ্য সামনে রেখে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনার। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার লক্ষ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ধারণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি। কিন্তু গবেষণার ফল যদি বাস্তব শিল্পখাতে কাজে না লাগে, তাহলে সেই গবেষণার সুফল পৌঁছাবে কতটা?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজন করা হলো একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বিষয়ক সেমিনার।
“The Role of Academia–Industry Collaboration: Research Excellence, Innovation and Industrialization”—শীর্ষক সেমিনারে উঠে আসে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের পারস্পরিক সহযোগিতার নানা দিক।
গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ, শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন, শিক্ষার্থীদের শিল্পভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সেমিনারের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার লক্ষ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে জাবিপ্রবি।
চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বায়োজিস কসমেসিউটিক্যালস, রুপল ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকুয়াকালচার ফার্ম, ডাটা সফট ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি ইনক. লিমিটেড, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন—ইএসডিও এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি—আরডিএ, বগুড়া।
এসব সমঝোতার আওতায় যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্পসম্পৃক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ও গবেষণা যেমন শিল্পখাতে ব্যবহারের সুযোগ পাবে, তেমনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদা পৌঁছাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’। সেখানে একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথমবারের মতো এমন বড় আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হবে এ ধরনের সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম। নেওয়া হবে একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার আরও কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের এই সংযোগ কতটা কার্যকর হয়—তা নির্ভর করবে স্বাক্ষরিত সমঝোতাগুলো বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গবেষণা ও শিল্পের মধ্যে এই সেতুবন্ধন জোরদার হলে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, সেই জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ—এই লক্ষ্যেই জাবিপ্রবিতে শুরু হলো একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের নতুন এই যাত্রা। এখন দেখার বিষয়, সমঝোতার কাগজ পেরিয়ে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ কতটা বাস্তব ফল বয়ে আনে।
বেরোবি ও আইসিএমএবির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর