আহমদ রফিক স্মরণসভায় বক্তারা

‘তিনি কখনও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি’

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

স্বাধীনতার পর বড় ব্যবসায়ী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আহমদ রফিক সে পথে যাননি। তিনি লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাকেই আঁকড়ে ধরেছিলেন। বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকা এবং কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংযোগ থাকলেও পার্টির সংকীর্ণ আনুষ্ঠানিকতা তাকে পীড়িত করেছিল। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে ওঠেননি, তবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে জানিয়েছেন গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’ প্রতিপাদ্যে খামখেয়ালী সভা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্মরণসভায় মফিদুল হক বলেন, আহমদ রফিক সবসময় নিজেকে নিজেই অতিক্রম করে গেছেন। পেশায় চিকিৎসক হলেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে বছরের পর বছর হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে। এ কারণে তিনি ঠিকমতো পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেননি। স্বাধীনতার আগে ও পরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিক তরুণদের বেশি ভালোবাসতেন। তিনি তরুণদের নিয়ে চলতে পছন্দ করতেন। অনেক সম্ভাবনাময় তরুণকে তিনি বই উৎসর্গ করেছেন।

আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সাদী বলেন, ১৯৪৭ সালে হরগঙ্গা কলেজে অধ্যয়নকাল থেকেই আহমদ রফিক ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে সরাসরি ভূমিকা রাখেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারের প্রথম নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনায়ও তিনি সক্রিয় অবদান রাখেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টিকারী বহু ঘটনার শুরুর দিকের সঙ্গে আহমদ রফিক সম্পৃক্ত ছিলেন। এত অবদান থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো নিজের ঢোল নিজে পেটাননি বা আত্মপ্রচারে লিপ্ত হননি। ৫০-এর দশকে সমসাময়িকরা যখন কবিতা লিখছিলেন, তখন ১৯৫৮ সালেই তাঁর অনন্য প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশিত হয়, যা তাঁর চিন্তাশীলতার পরিচয় বহন করে।

ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রগবেষক হিসেবে ড. আহমদ রফিকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলন নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই খামখেয়ালী সভার এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আহমদ রফিকের লেখা কবিতা এবং রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মঞ্জুয়ারা রশিদ।

খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম বলেন, হাতিরপুলে খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্রসংগ্রহশালায় আহমদ রফিক কর্নার করা হয়েছে। এছাড়া ‘আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ নামে একটি কোর্সের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে গুণীজনেরা ক্লাস নেবেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক উপমহাপরিচালক ফরিদুর রহমানসহ অনেকে।

প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণাঞ্জলিতে খামখেয়ালী সভা চারটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- আহমদ রফিক সংগ্রহ, যার মাধ্যমে খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে তাঁর রচনা সংগ্রহ ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ; আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা; এবং ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ নামে ছয় মাস মেয়াদি কোর্স। কোর্সটি এ নভেম্বরেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং বর্তমানে এর জন্য সদস্য আহ্বান চলছে।

এ ছাড়া রবীন্দ্রগবেষকদের জন্য ‘আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে খামখেয়ালী সভা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত