ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার সেই গভীর ক্ষত পেছনে ফেলে সেলেসাও দলে এখন নবজাগরণের হাওয়া। ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে ব্রাজিল জাতীয় দলে শুরু হয়েছে এক নতুন রূপান্তরের অধ্যায়।
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে গড়া এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ ট্যুর সফলভাবে শেষ করার পর, আনচেলত্তির কণ্ঠে ঝরে পড়েছে ভবিষ্যতের এক অপ্রতিরোধ্য দল গড়ে তোলার তৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাস। ভারতের বিপক্ষে শনিবার ৪-০ গোলের দুর্দান্ত জয় দিয়ে এই পর্বের ইতি টানল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সবশেষ বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তারকাকে বাইরে রেখে একেবারে নতুন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মিশনে নেমেছেন আনচেলত্তি। এই প্রীতি ট্যুরে কৌশলগত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়কেই মাঠে নামার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।
পুরো তিন ম্যাচে দলের কান্ডারি হয়ে শুরু থেকে মাঠে ছিলেন কেবল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো। এই রোটেশন পলিসির সুবাদে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছে আটটি নতুন মুখের। মাঠের লড়াইয়ে আলো ছড়িয়েছেন ভ্যান্ডারসন ও স্যামুয়েল লিনো, যারা পান নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল; বিশেষ করে লিনো ভারতের বিপক্ষে জোড়া গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই জয় ও এক ড্রয়ে আত্মবিশ্বাসী এক গোড়াপত্তন হলো নতুন এই ব্রাজিলের।
গতকাল ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা এই সময়টা থেকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বেরিয়ে আসছি, কারণ খেলোয়াড়েরা ভালো পারফর্ম করেছে, যদিও কিছু খেলোয়াড় আরও ভালো করতে পারত। প্রতিটি খেলোয়াড়েরই নিজস্ব চরিত্র আছে। শেষ পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট। ম্যাচগুলো কোন মানের হচ্ছে তা বড় কথা নয়, আমাদের কাছে মূল বিষয় হলো সেগুলোর জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা... আমি এই খেলোয়াড়দের অনেক ভালোভাবে চিনতে পারছি।’
আসছে নভেম্বর মাসে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পরবর্তী প্রীতি ম্যাচগুলোর আগে এই ট্যুর থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা যে ভীষণ মূল্যবান হয়েছে, তা পরিষ্কার করে দেন আনচেলত্তি।
স্কোয়াডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি একটি খুব আকর্ষণীয় সময় কেটেছে। পরবর্তী স্কোয়াড নির্বাচনের বিষয়ে আমার ধারণা এখন অনেক স্পষ্ট। স্পষ্টতই, আমরা খুব বেশি পরিবর্তন করব না, তবে আমাদের অন্য তরুণ খেলোয়াড়দেরও বিকশিত করতে হবে যারা এই দফায় স্কোয়াডে ছিল না কিন্তু আগামীতে থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এখন সুলিভান