নীলফামারীতে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩৪, আসামি ৩০০

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

নীলফামারীতে মাদক মামলার এক আসামিকে আদালতে নেওয়ার সময় তার মুক্তির দাবিতে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে হট্টগোলের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষনিকভাবে ২০ জন ও পরে অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনসহ ৩৪জনকে জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার খগা খড়িবাড়ি দোহলপাড়া এলাকার আবু সাঈদ(৩০), একই এলাকার মিরাজ ইসলাম(১৮), আশিকুল ইসলাম স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম(৪০), আশিকুল ইসলাম(৩৫), আশিকুল ইসলামের স্ত্রী রিমু(৩৫), গুলজার রহমান(৪৫), খগা খাড়িবাড়ি নতুন বাড়ি এলাকার সাইফুল ইসলাম(৩২), খগা খড়িবাড়ি বড় বাড়ি এলাকার শহিদুল ইসলাম(৪৫), মো. আলাউদ্দিন(৫০), ডংগর বাজার এলাকার মাহফুজার রহমান(১৯), মো. সোহেল(২১), কবিরুল ইসলাম(২৫), বন্দর খড়িবাড়ী এলাকার সাগর দেবনাথ(২২), একই এলাকার মশিউর আলম(৩৬), নাইমুল ইসলাম(২২), লিপন ইসলাম(১৯), আনোয়ার হোসেন(১৯), মো. ইসলাম(৬৫), সাগর রহমান(২৩), মহিকুল ইসলাম(২৫), বন্দর বাজার ডংগর খড়িবাড়ি নুরবানু বেগম(৫০), চাবুলের পাড়া এলাকার দুলালী বেগম(৩৫),পূর্ব ছাতনাই কলোনি মিয়াপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম লেবু(৪৫)।

একই এলাকার নুরুজ্জামান(৫০), পূর্ব ছাতনাই ওমরপাড়া এলাকার হদয় ইসলাম(২২), একই এলাকার মিলন ইসলাম(১৯), আরিফুল ইসলাম(১৯), নাঈম ইসলাম(১৯), শুভ ইসলাম(১৯), ছাতনাই কলোনী এলাকার সামিনুর ইসলাম(৪৫), একই এলাকার আ. সালাম(২৫), ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন(৪৫), ডিমলা টিএনটি রোড এলাকার মিম হোসেন(২০) এবং সৈয়দপুর উপজেলার ফজলুর হক বেলালের স্ত্রী সাকিরা বেগম(২০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব দোহলপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সুজন ইসলামকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। তিনি কয়েকটি মাদক মামলার আসামি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সুজন ইসলামকে আদালতে নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার আসামীর স্বজন ও এলাকাবাসী তার (সুজন ইসলাম) মুক্তির দাবিতে এসপি অফিসের প্রবেশের মুল ফটকের সামনে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় তাৎক্ষনিকভাবে ২০ জনকে আটক করে পুলিশ ।

পুলিশের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুজন ইসলামকে আদালতে পাঠানোর সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশের কাজে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে ঘটনাস্থল হতে ২০ জনকে আটক করে। এরপর ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি দেখে ডিমলা এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত সহ ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এবিষয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টার অভিযোগের মামলা করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। 

 

 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত