উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখতে চায় ইইউ

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। গতকাল রবিবার রাজধানীতে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ দ্বিতীয় দিনের একটি অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে সোনারগাঁও হোটেলে এ অনুষ্ঠান চলছে। আজ সোমবার তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের শেষ দিন।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি এবং দেশটি তার উন্নয়নযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পটভূমিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের একটি অংশীদার হিসেবে দেখছে। দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়; বরং ভিন্ন মাত্রার উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখতে চায় ইইউ।

মাইকেল মিলার বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একসঙ্গে কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও পরীক্ষা করে দেখতে চায় তারা। বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়াকে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ও অনন্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে রাজনীতিতে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার উন্নয়ন অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একদিকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং জটিল বৈদেশিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশকে বাহ্যিক ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান, জলবায়ু, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সামলে এগিয়ে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, সহনশীল ও সংযুক্ত থাকতে পারে, সেই লক্ষ্যেই ইইউর পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত