পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত বিবেচনায় ওই পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পরে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। শনিবার পুলিশ জানায়, তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত
ঘটনার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি এর পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ইরান অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
এর আগে, ষষ্ঠ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, এই ঘটনায় ‘স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত’ রয়েছে। তবে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এর বেশি কিছু জানাতে পারেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানি। আমরা তাদের ছেড়ে দিতাম না।'
তবে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'খুব ঘনিষ্ঠভাবে' কাজ করেছে।
ইরানের হামলার আশঙ্কা
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বহু দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) একটি অগ্রবর্তী অপারেটিং ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ব্রিটেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, 'ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি আমাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।'
ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে ওই ঘাঁটির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।