ফুডির প্রথম জিঙ্গেল ‘গুডি গুডি’, ফুয়াদের সুরে নতুন মুডে শ্রোতারা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

শহুরে ব্যস্ত জীবনে খাবার, বাজার কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য—সবকিছুকে আরও সহজ করে তোলার পাশাপাশি এবার সুরের জগতেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল ফুডি। নিজেদের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ড জিঙ্গেল ‘গুডি গুডি’ নিয়ে এসেছে ফুডি। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সংগীত প্রযোজক ফুয়াদ আলমুক্তাদিরের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই জিঙ্গেল ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি করেছে আলাদা আগ্রহ।

‘যদি ফোনে থাকে ফুডি, হবে মুড গুডি গুডি’—এই আকর্ষণীয় পঙ্‌ক্তিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে গানটি। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, মাথায় দুশ্চিন্তা কিংবা হঠাৎ ক্ষুধা—শহুরে জীবনের পরিচিত এসব মুহূর্ত দিয়েই শুরু হয় জিঙ্গেলের গল্প। এরপর খাবারের পাশাপাশি ফুডির অন্যান্য সেবার কথাও উঠে আসে গানের কথায়।

খাবার, বাজার ও কেনাকাটা—ফুডির বিভিন্ন সেবাকে সহজ ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই জিঙ্গেলে। খাবারের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জীবনযাপনভিত্তিক পণ্য, ফুল, বিভিন্ন ছাড় এবং খাবার অপচয় রোধে ফুড রেসকিউয়ের মতো বিষয়ও জায়গা পেয়েছে গানের কথায়।

জিঙ্গেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘গুডি গুডি’ অংশটি। ‘ফুডি’ ও ‘গুডি গুডি’ শব্দের ছন্দময় ব্যবহার গানটিকে সহজেই মনে রাখার মতো করে তুলেছে। ‘যদি ফোনে থাকে ফুডি, হবে মুড গুডি গুডি’—এই পঙ্‌ক্তিটিই পুরো জিঙ্গেলের মূল আবহকে ধারণ করেছে।

ফুয়াদের সঙ্গে ফুডির প্রথম অ্যান্থেম

ফুডির প্রথম ব্র্যান্ড জিঙ্গেলে ফুয়াদ আলমুক্তাদিরের মতো জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর উপস্থিতি গানটিতে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। সমসাময়িক সংগীতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাণবন্ত ও তরুণদের উপযোগী আবহে তৈরি হয়েছে জিঙ্গেলটি।

গানের ভাষাতেও রয়েছে সমকালীন শহুরে জীবনের ছাপ। বাংলা কথার সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত কিছু পরিচিত বিদেশি শব্দের ব্যবহার গানটিকে আরও স্বাভাবিক ও তরুণদের কথাবার্তার কাছাকাছি করেছে।

খাবার থেকে বাজার—এক গানে ফুডির নানা সেবা

কাচ্চি, পানীয় কিংবা খাবারের অর্ডারের মতো পরিচিত প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হলেও জিঙ্গেলটি শুধু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গানের পরবর্তী অংশে উঠে এসেছে ফুডি মার্টের নানা পণ্য—হালকা খাবার, সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী।

এরপর এসেছে কেনাকাটার প্রসঙ্গ। জীবনযাপন ও সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন পণ্য থেকে শুরু করে ফুল—ফুডির বিভিন্ন সেবার ধারণা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে।

খাবার, বাজার, কেনাকাটা—এই তিনটি বিষয়ের মধ্য দিয়েই একটি অ্যাপ থেকে কী ধরনের সেবা পাওয়া যায়, তার একটি সহজ ধারণা তৈরি হয়।

ছাড়ের পাশাপাশি রয়েছে খাবার অপচয় রোধের বার্তাও

জিঙ্গেলে ফুডির বিভিন্ন ছাড়ের কথাও উঠে এসেছে। ‘অফারের নাই শেষ’—এই পঙ্‌ক্তিটি ফুডির ছাড়কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার দিকটি তুলে ধরে।

তবে গানটিতে কোনো নির্দিষ্ট ছাড় বা কুপন নম্বরের পরিবর্তে সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য অপচয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে ফুড রেসকিউয়ের বিষয়টিও গানের কথায় উঠে এসেছে।

শুধু শোনা নয়, ব্যবহার করা যাবে নিজের ভিডিওতেও

ফুডি জিঙ্গেলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—এটি শুধু ব্র্যান্ডের প্রচারণামূলক ভিডিওতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের পাশাপাশি স্পটিফাই ও অ্যাপল মিউজিকেও গানটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শ্রোতারা চাইলে নিজেদের স্টোরি, রিল কিংবা ছোট ভিডিওতেও এই গান ব্যবহার করতে পারবেন। মিউজিক বা অডিও খোঁজার জায়গায় ‘ফুডি ফুয়াদ’ লিখলেই জিঙ্গেলটি খুঁজে পাওয়া যাবে।

ফলে কেউ ফুডি থেকে খাবার অর্ডারের মুহূর্ত, অফিসের দুপুরের খাবার, বাজার করার সময় কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কোনো মজার মুহূর্তের ভিডিওতে এই গান ব্যবহার করতে পারবেন।

‘মেড ইন বাংলাদেশ’—দেশীয় পরিচয়ের উদযাপন

জিঙ্গেলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি ‘ফুডি, মেড ইন বাংলাদেশ!’। পুরো গানেই বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত বিভিন্ন অনুষঙ্গ উঠে এসেছে—কাচ্চি, বাজার, মাছ-মাংস, ফুল এবং বাংলা-ইংরেজি মিশ্রিত কথ্য ভাষা।

ফুয়াদের সংগীতায়োজন ও সমসাময়িক সুরের সঙ্গে এসব স্থানীয় উপাদানের সমন্বয় জিঙ্গেলটিকে একটি দেশীয় পরিচয়ও দিয়েছে।

এখন শ্রোতাদের পালা

ফুডির প্রথম জিঙ্গেলে রয়েছে খাবার, বাজার, কেনাকাটা, ছাড়, খাবার অপচয় রোধ এবং দেশীয় পরিচয়ের নানা উপাদান। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে শ্রোতাদের মনে থাকার মতো হয়ে উঠতে পারে সেই সহজ পঙ্‌ক্তি—যদি ফোনে থাকে ফুডি, হবে মুড গুডি গুডি। জিঙ্গেলটি ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে দেখা ও ব্যবহার করা যাচ্ছে। পাশাপাশি স্পটিফাই ও অ্যাপল মিউজিকেও শোনা যাচ্ছে গানটি।

একটি ব্র্যান্ড জিঙ্গেলের সাফল্য শুধু দর্শকসংখ্যা বা প্রচারণার পরিসরে নয়; শ্রোতারা গানটির পঙ্‌ক্তি মনে রাখছেন কি না, নিজেদের ভিডিওতে ব্যবহার করছেন কি না কিংবা বারবার শুনছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আর কেউ যদি গুনগুন করে বলেন, ‘যদি ফোনে থাকে ফুডি…’ আর পাশ থেকে কেউ বলে ওঠেন, ‘হবে মুড গুডি গুডি’—তাহলেই হয়তো ফুডির প্রথম জিঙ্গেল তার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত