বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: জামায়াত এমপি

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-১২ আসন গড়ার দাবিতে রাজধানীর বাংলামোটরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চল।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলামোটর মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাংলামোটর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান বলেন, তাদের এই বিক্ষোভ সমাবেশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। তারা আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবেন না। তিনি প্রশাসনের প্রতি অনতিবিলম্বে সব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলেও মেজর আখতারুজ্জামানের মতো নিরপরাধ ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাইফুল আলম খান আরও বলেন, বাংলামোটরে যাদের মারা হয়েছে তারা কোনো দল করেন না। তাহলে তাদের কেন মারা হলো, তা জানতে চান তারা। বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করেই ছাড়বেন, ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, একটি দল ক্ষমতায় থেকে আজ আন্তর্জাতিক চাঁদাবাজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা-১২ আসনের যেখানেই চাঁদাবাজি চলবে, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই হবে। এ কর্মসূচি সারা বাংলাদেশে চলবে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, সরকার সার, বিদ্যুৎ ও জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

ড. রেজাউল করিম আরও বলেন, যারা বলেছিল মদিনার সনদে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারা এখন কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তারা উল্টাপাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাড্ডার স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের এমপিরাই রাড্ডার স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে। শুধু পদত্যাগ করিয়ে চুপ থাকলে হবে না, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

এ ছাড়া মিরপুরের রাড্ডার ঘটনা আড়াল করতে মেজর আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, ইউসুফ আলী মোল্লা, নুরুল ইসলাম আকন্দ, কলিম উল্লাহ, আহসান উল্লাহ ও আবু সাঈদ মণ্ডলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত