প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সেøাগান দেন। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় হামলাকারীদের অজ্ঞাতনামা করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিও দেখে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে হামলার ঘটনায় রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসান এবং বিশাল চক্রবর্তীকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ ছাত্রদল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, তারা হচ্ছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, শরিফুল ইসলাম, বুলবুল রহমান, ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম ও ছাত্রদলকর্মী সাজু। গতকাল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

 সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-২-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির বলেন, একটি অজ্ঞাতনামা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি নিয়েছি। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তবে অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই হামলাকারীদের শনাক্ত করে নাম উল্লেখ করে মামলা ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো গুরুতর ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছিল, যাতে হামলাকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু হল প্রাধ্যক্ষ ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। হামলাকারীদের রক্ষা করতে হল প্রাধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেজন্য কোনো ফুটেজ নেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত