বকেয়া বেতন ও মামলার প্রতিবাদে সদাগর এক্সপ্রেসের শ্রমিকদের কর্মবিরতি

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত মে মাস থেকে টানা ৫ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। উল্টো বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গত ৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মিথ্যা চুরি মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও শ্রমিকদের ওপর থেকে ‘মিথ্যা’ চুরি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ‘সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস’-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন কয়েক শতাধিক শ্রমিক।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত মে মাস থেকে টানা ৫ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বেতনের কথা বললে বারবার আশ্বাস দিলেও এখন  টালবাহানা করেন। উল্টো বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গত ৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মিথ্যা চুরি মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের লেবার ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, 'বিগত তিন মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছি না। মা খুব অসুস্থ, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করানো দরকার। মালিকপক্ষের হাতে-পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করেও টাকা পাইনি। কেবল আমরা তিন ইনচার্জই কোম্পানির কাছে পাওনা ২৪ লাখ টাকা। বেতন না পাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে দিন কাটছে।'

অডিট প্রধান আব্দুল গাফফার জানান, 'আমরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি না। পারিবারিক সমস্যার কারণে একদিন কাজে আসতে না পারায় আমাকে শোকজ করা হয়েছে। হিসাব বুঝিয়ে দিতে বললেও তা না দিয়ে উল্টো আমাদের ওপর মামলা ও হামলা করছে।'

গাড়ি চালক মমিনুল ইসলাম বলেন, 'কারো তিন-চার মাস, আবার কারো পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া। দিনরাত গাড়ি চালিয়ে কোম্পানির সেবা করলেও বিপদের দিনে তাদের পাশে পাচ্ছি না। এখন বকেয়া বেতন চাইলে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জমি বন্ধক রেখে সংসার চালাতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া দিতে না পেরে পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি; পাওনাদারের ভয়ে নিজের বাসায় চোরের মতো রাত কাটাতে হয়।'

সদাগর এক্সপ্রেসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এমদাদুল ইসলাম বলেন, 'কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের সময় নতুন মালিক সকল কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন বেতন দেবেন না এবং নতুন লোক নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় বখাটে ও কিশোর গ্যাং দিয়ে আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ন্যায্য পাওনা চাওয়ায় শ্রমিকদের ওপর একটি ভিত্তিহীন চুরি মামলা দেওয়া হয়েছে।'

তিনি জানান, এসব অন্যায় আচরণ ও নিরাপত্তার অভাবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে কর্মবিরতিরত কর্মচারীরা হুশিয়ারি দিয়ে জানান— দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনের সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কারো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত