২২ দিন পদ্মা-মেঘনায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষার প্রধান প্রজনন মৌসুমে পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ৭ অক্টোবর মধ্যরাত (১২টার পর) থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই ২২ দিন নদীতে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। 

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদীপথ অভয়াশ্রমের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদী এলাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো জেলে নদীতে নামতে পারবেন না।

প্রতিবছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রধান সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে ছুটে আসে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের মৎস্য আইনে শাস্তি দেওয়া হবে।

চাঁদপুরে ৫১ হাজার ১৯০ জন জেলে রয়েছেন। এসব জেলের জন্য সরকার ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার জেলের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ এসেছে। বাকি জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ সময় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, তার উপজেলায় ৯ হাজার ৪ জন জেলে রয়েছেন। সরকারিভাবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তবে নিষিদ্ধ সময়ে কাউকে নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে ১ থেকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার জেলে হরি দাস বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে তারা চাল সহায়তা পান। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। জেলেদের দাবি, এ সহযোগিতার পরিমাণ যেন বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, মতলব উত্তরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার নৌসীমার জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও কেউ আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত