প্যারিসে ১৪ মিনিটে ৪ গোলের ঝড়

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

ইউরোপীয় ফুটবলে একই রাতে আলাদা দুই ম্যাচে ধাক্কা সামলে নিজেদের আধিপত্য জানান দিল ফ্রান্স ও ইতালি। প্যারিসের স্তাদ দ্য ফ্রান্সে পিছিয়ে পড়া ফরাসিরা যেমন ১৪ মিনিটের ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়ামকে, তেমনি বোলোনিয়ার রেনাতো দাল’আরা স্টেডিয়ামে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের জয়ের ধারা বজায় রেখেছে রবার্তো মানচিনির ইতালি।

ফরাসিদের এই জয়ের শুরুর পথটি অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে লেস ব্লুজদের দলে যেন নেমে এসেছিল হতাশা ও অন্ধকার। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে রোমেউ লাভিয়ার ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে সফরকারী বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন দোদি লুকেবাকিও। পুরো প্রথমার্ধজুড়ে প্রতিপক্ষের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে না পেরে কঠিন চাপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। বিরতির বাঁশি বাজার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ফরাসি আক্রমণগুলো বেলজিয়ামের রক্ষণ দেয়ালে এসে বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

তবে প্রথমার্ধের সেই অচলাবস্থা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেও। তবে কোচ জিনেদিন জিদানের এই সিদ্ধান্তেই পুরো বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। আক্রমণভাগে প্রাণ ফেরাতে  বেঞ্চ থেকে মাইকেল ওলিসে, রায়ান শেরকি, লুকাস দা কুনহা ও দেজিরে দুয়েদের মাঠে নামান জিদান। আর তাতেই প্যারিসে শুরু হয় এক ঐতিহাসিক টর্নেডো। বদলি নামা ফুটবলারদের পায়ে ভর করে ম্যাচের শেষ ভাগে মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে চারটি গোল করে বসে ফ্রান্স। ৭৭ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড দুয়ের বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে সমতা ফেরায় ফরাসিরা। এর ঠিক চার মিনিট পর ওলিসের পাস থেকে জিরো ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল ঘেঁষে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন শেরকি।

ম্যাচের বাকি সময়টায় চলে ওলিসে ম্যাজিক। ৮৮ মিনিটে এই তারকা ফরোয়ার্ড ব্যক্তিগত প্রথম ও দলের তৃতীয় গোলটি করার মিনিট দুয়েক পর, ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে দুয়ের অসাধারণ পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি তুলে নিয়ে ৪-১ ব্যবধানের এক বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড। ঘরের মাঠে যখন হতাশা দিচ্ছিল উঁকি, তখন সুপার সাবদের এমন ঘুরে দাঁড়ানোর নামটাই যেন ফুটবল। প্রত্যাবর্তনের এমন দারুণ গল্প লিখে দাপুটে জয়ের পর ফরাসি কোচ জিদানও স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এটাই ফুটবল, এটাই আমরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।’

ফরাসিদের এই দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের রাতে দাপট দেখিয়েছে আজ্জুরিরাও। ফ্রান্সের মতো তাদের শুরুটাও কিছুটা ক্লান্তিকর ও কঠিন ছিল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে জিওভান্নি দি লোরেনজোর ক্রসে জানলুকা স্কামাক্কার প্রচেষ্টা প্রথম দফায় প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে জোরালো শটে আজ্জুরিদের এগিয়ে নেন তিনি। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে ডোগুহান সিমসিরের গোলে সমতায় ফেরে তুরস্ক। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠতে মোটেও দেরি করেনি ইতালি। সমতা ফেরার মাত্র তিন মিনিট পরেই নিকোলো বারেল্লার সেট-পিস থেকে আসা পাসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে রিকার্দো কালাফিওরি দলকে আবারও এগিয়ে নেন।

এরপর ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা পিও এসপোসিতো রিবাউন্ড থেকে গোল করে ৩-১ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিশ্চিত করেন। দলের পারফরম্যান্স ও স্কোয়াডে পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানচিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ৯জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেছিলাম, যার ফলে খেলায় কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিল। তবে সব মিলিয়ে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ম্যাচ ছিল এবং আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।’

দুই জায়ান্টের এই জয়গুলোর মধ্য দিয়ে নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের সমীকরণ আরও জমে উঠেছে। গ্রুপ ‘এ-১’-এর পয়েন্ট টেবিলে ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে আছে ফ্রান্স। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মানচিনির ইতালি। তিনে থাকা বেলজিয়ামের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট এবং কোনো পয়েন্টের খাতা খুলতে না পারা তুরস্ক রয়েছে পয়েন্ট তালিকার একদম তলানিতে। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো লড়াইয়ে নামবে এই দলগুলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত