শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আউটকাম বেসড কারিকুলামের সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি- বাউবি উপাচার্য

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে 'টিচিং অ্যান্ড এসেসমেন্ট ইন ওবিই কারিকুলাম' (আউটকাম বেসড এডুকেশন কারিকুলামে শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন) শীর্ষক এক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল ১০:০০ টায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ক্যাম্পাসের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।  

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, 'আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলামের সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত পরীক্ষা ও সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ কারিকুলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে অভ্যস্ত শিক্ষকদের এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষকরা ওবিই কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন এবং এর সফল বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস বিভাগ এ ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অন্যান্য বিভাগের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। তিনি কর্মশালা আয়োজনের জন্য ইতিহাস বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এবং কলা অনুষদের অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান'।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল কালাম সরকার। তিনি বলেন, 'ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আরও সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিবিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূর করার ক্ষেত্রে এ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং ইতিহাস বিভাগের ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি কর্মশালা আয়োজনের জন্য ইতিহাস বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এবং এর সফলতা কামনা করেন'।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা দূর করা জরুরি। শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগ ও কলা অনুষদের সহযোগিতায় এ কারিকুলামের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য আরও মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে'।

কর্মশালায় বক্তারা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা বা আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলামের গুরুত্ব, এর সঠিক প্রয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকগণ অংশ নেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত