হিলিতে তুলির আঁচড়ে দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগররা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

আর একসপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। মাটির কাজ শেষ করে এখন মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমায় রং, নকশা ও সাজসজ্জার কাজ। তুলির প্রতিটি আঁচড়ে দেবী দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তুলতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগররা। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় হতাশ তারা।
 
আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সীমান্তবর্তী হিলি এলাকায় এবার ২২টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা।

প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রং, নকশা ও অন্যান্য উপকরণের কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে। এ কারণে তাদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। এবারের দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং কৈলাসে গমন করবেন নৌকায়। 

খুলনা থেকে আসা প্রতিমা তৈরির কারিগর সংগ্রাম শীল বলেন, এ বছর তারা পাঁচটি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। সব কটির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। হিলিতে একটি প্রতিমার রং করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর বাকি প্রতিমাগুলোর রং করার কাজ শেষ করতে হবে। হাতে সময় কম থাকায় সবাইকে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাপ-দাদার পেশা হিসেবে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন। কিন্তু প্রতিবছর রং, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ছে। এতে কাজের খরচ বাড়লেও সে অনুযায়ী আয় বাড়ছে না।

আরেক কারিগর সুনীল পাল বলেন, প্রতিমায় রং করার কাজ চলছে। সকাল থেকে শুরু করে রাত দুইটা-তিনটা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। খাওয়া-দাওয়ার সময়ও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। পূজার আগ পর্যন্ত এভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

কারিগর স্বপন পাল বলেন, প্রতিমায় রং করার কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের নকশা, প্রিন্ট ও চোখ আঁকার কাজ। এরপর অন্য জায়গায় গিয়ে বাকি চারটি প্রতিমার কাজ শেষ করতে হবে। সময় কম থাকায় চাপও বেশি।

তিনি বলেন, রং থেকে শুরু করে প্রতিমা তৈরির প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পারিশ্রমিক বাড়েনি। এতে কাজ করে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। তারপরও বাপ-দাদার পেশা হওয়ায় এ কাজ ছেড়ে যেতে পারছেন না তারা।

হিলির চণ্ডীপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার বসাক বলেন, গতবারের তুলনায় এবার তাদের পূজার আয়োজন আরও ভালো করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কারিগরও পরিবর্তন করা হয়েছে। খুলনা থেকে কারিগর এনে প্রতিমা তৈরি করানো হচ্ছে। প্রতিমায় রং করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, এবার মন্দিরের আলোকসজ্জায়ও ভিন্নতা আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে গতবারের তুলনায় এবার আরও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের আশা করছেন তারা।

এদিকে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশাহ আলম বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। থানার কর্মকর্তাদের ইউনিয়ন ও বিটভিত্তিক মন্দিরের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সার্বক্ষণিকভাবে পূজামণ্ডপগুলোর খোঁজখবর রাখবেন।

ওসি আরও বলেন, পূজামণ্ডপে নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে বাইরে থেকে কেউ এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি পূজামণ্ডপে অন্তত একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পূজার আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত