স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে চায় সরকার: মাহ্‌দী আমিন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁদের পেশাগত বিকাশের পথ সুগম করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে স্থাপত্য শিক্ষার পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

তিনি বলেছেন, দেশের তরুণ স্থপতিরা যেন বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্য প্রকল্পে কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিদেশে পড়াশোনার পথও উন্মুক্ত রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক স্থাপত্য শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহ্‌দী আমিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছেন। এই বিপুলসংখ্যক তরুণ পেশাজীবীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর উপযুক্ত ক্ষেত্র নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। দেশের স্থপতিদের মেধা ও দক্ষতার ঘাটতি নেই; প্রয়োজন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের কার্যকর পথ তৈরি করা।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, স্থাপত্য শুধু একটি বিশেষায়িত ও সৃজনশীল পেশা নয়, এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্থাপত্যের মধ্য দিয়ে একটি দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সময়ের প্রতিফলন ঘটে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক মানদণ্ড ও আধুনিক উদ্ভাবনকে ধারণ করে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের সুযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলসহ (বিএসি) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের স্থাপত্য শিক্ষার ডিগ্রিগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথ তৈরি হতে পারে।

স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত বই, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উপযুক্ত স্টুডিও ও স্থাপত্য সরঞ্জাম রয়েছে কি না, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত যথাযথ কি না, তা পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

এসব ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মাহ্‌দী আমিন বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থাপত্য শিক্ষার জন্য বাড়তি বাজেট বরাদ্দের বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, স্থাপত্য শিক্ষাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের তরুণ পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতে পারেন। তাঁদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও বাস্তবমুখী শিক্ষার পাশাপাশি বিদেশি প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

স্থপতিদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে মাহ্‌দী আমিন বলেন, লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো বিশ্বখ্যাত শহরগুলো তাদের আইকনিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশের স্থপতিদেরও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরে এমন স্থাপনা নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরবে। প্রতিটি স্থাপনা শুধু বর্তমানের প্রয়োজন পূরণ করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বার্তা বহন করে।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকারের গৃহীত নীতির মাধ্যমে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামো খাতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি খাত প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাতকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। দেশের স্থপতিরা তাঁদের মেধা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, স্থাপত্যে আধুনিকতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা, সামাজিক মূল্যবোধ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন থাকা জরুরি। আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করতে আইএবি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত