কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে গোপনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুপারিনটেনডেন্ট ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া রেজুলেশন তৈরির অভিযোগও করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশ।
এ ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দাবি, নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে গোপনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে এ জন্য ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষক-কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, গত ৬ অক্টোবর নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই দিন সুপারিনটেনডেন্টকে মাদ্রাসার কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি আর নিয়মিত মাদ্রাসায় আসছেন না। এমনকি তাকে বাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যদের একাংশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগের জন্য তৈরি করা রেজুলেশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডে মহাপরিচালকের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রামের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।