মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন রামগতি পৌরসভার সভাপতি হাবিবুল্লাহ নীরব পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আমার কাছে এসেছিলেন। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশুকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতেও দেখা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে দেখা গেছে। এমন ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের দৃশ্য রয়েছে। এ ছাড়া আলাদা ছবিতে দুই শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটিতে শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করতেন। ভয়ে শিশুরা বাড়িতে ফিরে এ বিষয়ে কিছু বলত না। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের নিষ্ঠুরতার বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিভাবকরা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব মোবাইল ফোনে বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত