ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য এল। চুক্তিটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন জেলেনস্কি। খবর রয়টার্সের।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১০ অক্টোবর) ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’
তাঁর দাবি, রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা চালিয়ে জেলেনস্কি বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহে সমস্যা তৈরি করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমাদের কৃষক ও খামারিদের জন্য ডিজেল নিয়ে সমস্যা তৈরি করতে চান। কারণ, বিশ্বের ডিজেল সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে রাশিয়া থেকে।’
এর আগের দিন শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে মস্কো আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে।
জেলেনস্কি শনিবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সঙ্গে ইউক্রেনে রুশ হামলার যোগসূত্র রয়েছে। ওই দিন ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাশিয়ার হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হন।
জেলেনস্কির ভাষায়, ‘আজ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ার আবাসিক ভবনগুলোতে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতের ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, চাপ কমানোকে রাশিয়া এমন সংকেত হিসেবে দেখছে যে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে, শহরগুলোতে বোমা ফেলতে পারে। আমাদের ভিন্ন ধরনের সংকেত দিতে হবে।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মতে, মস্কোকে যুদ্ধ বন্ধে আন্তরিক আলোচনায় বসাতে ওয়াশিংটনের উচিত রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে কিয়েভ।